অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস টাইম আউট হয়ে ক্রিকেটে স্পোর্টসম্যান স্পিরিট খুঁজছেন

Home » অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস টাইম আউট হয়ে ক্রিকেটে স্পোর্টসম্যান স্পিরিট খুঁজছেন

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস টাইম আউট হয়েছেন এবং ক্রিকেটে স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের সন্ধান করছেন।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে কিংবা ক্রিকেট ইতিহাসে অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কার ম্যাচে একটি তাক লাগানোর মত ঘটনা ঘটে গিয়েছিল সেদিন। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম টাইম আউট হয় শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস টাইম আউট দেওয়ার পর থেকেই এটিকে ঘিরে বিতর্ক চলছে সমানতালে। এমনকি ঘটনার পরদিন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস এর ভাই সাকিবকে রীতিমত হুমকি দিয়ে বসেছেন। যেখানে তিনি সাকিবকে কখনই শ্রীলংকায় স্বাগত করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

বিশ্বকাপে সেদিন ঘটে যাওয়া টাইম আউট ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন অনেক পুরনো ক্রিকেটার। অনেকেই বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের এমন আপিলকে বাজেভাবে বলছেন, অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের বিষয়টি অবিচার হয়েছে। ম্যাথিউস নিজেই ম্যাচ শেষে একটি প্রেস কনফারেন্সে সাকিব এবং পুরো বাংলাদেশ দলের সমালোচনা করেন। এছাড়াও ম্যাথিউসের মতে তার সাথে ন্যায় বিচার করা হয়নি সেদিন।

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের টাইম আউট ঘটনার শুরু স্পোর্টসম্যান স্পিরিটেরথেকে শেষ পর্যন্ত সকল সত্য নিয়ে থাকছে এই নিবন্ধটি।

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস টাইম আউট ঘটনা

আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপের ৩৮তম ম্যাচ ক্রিকেট বিশ্ব একটি অবাক ঘটনার সম্মুখীন হয়। সেদিন ছিল বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকার মধ্যকার ম্যাচ। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ম্যাচের সমীকরণের দিক থেকে বাংলাদেশ যদিও অনেক আগেই ছিটকে যায়। তবে শ্রীলঙ্কার জন্য কিছুটা আশা বেচেঁ থাকত যদি তারা উক্ত ম্যাচটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেত।

সেদিন টসে জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। ৫ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থা যখন অনেকটাই খারাপ ছিল তখন মাঠে ম্যাথিউসের আগমন ঘটে। তবে সেদিন ম্যাথিউসের ভাগ্য সায় দেয়নি। একটি বলও ফেস করার আগে টাইম আউট এর ফাঁদে ধরা পড়েন ম্যাথিউস।

তবে ম্যাথিউসের বক্তব্য তিনি সঠিক সময়ের মধ্যেই ক্রিজে উপস্থিত হয়েছেন।

তবে হ্যালমেট ঠিক করতে যাওয়ার সময় হটাৎ তার হ্যালমেটের একটি স্ট্যাম্প ভেঙে যায়।

এতে তিনি ড্রেসিং রুমের দিকে উদ্দেশ্য করে আরেকটি হ্যালমেট আনতে বলেন।

এরপরই ঘটে গেছে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে অবাক করার মতো একটি ঘটনা।

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আম্পায়ারের কাছে আপিল করেন টাইম আউট এর।

আম্পায়ার টাইম আউট এর বিষয়টি সম্পূর্ণ রিভিউ করেন এবং সাকিবের আবেদন অনুযায়ী ম্যাথিউসকে আউট ঘোষণা করেন।

যেটি কোনভাবেই মেনে নিতে পারেননি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।

তিনি মাঠের ভেতরেই সাকিব এবং আম্পায়ারের সাথে এই ব্যাপারে কিছু সময় তর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

তবে শেষ পর্যন্ত টাইম আউট হয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে।

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ছিলেন বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় যিনি টাইম আউট হয়েছেন।

টাইম আউট ঘটনা নিয়ে পরবর্তীতে প্রেস কনফারেন্সে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ম্যাথিউস। তিনি বলেন, “আমি আজকের আগে সাকিব এবং বাংলাদেশ দলকে অনেক সম্মানের চোখে দেখতাম, যেটা এখন দেখছি না। কারণ আমি কোন সময় নস্ট করিনি।

আমি সঠিক সময়ের মধ্যেই ক্রিজে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হ্যালমেটের একটি স্ট্যাম্প ভেঙে যায়।

এটি একটি খুবই সাধারণ ঘটনা। এখানে অবশ্যই আপনার কমনসেন্স দিয়ে বিষয়টা দেখতে হবে।

” আউট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে পর প্রমাণ আছে আমি সময়মতো পৌঁছেছি।

আপনারা চাইলে ভিডিও ফুটেজ দেখাতে পারি। আমার ক্রিজে পৌঁছানোর পর আরো পাঁচ সেকেন্ড সময় বাকি ছিল।

সাকিব এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এটি একটি লজ্জাজনক কাণ্ড।’

তবে ম্যাচের শেষে অধিনায়ক সাকিব এই ব্যাপারে তেমন কিছুই বলেন না। তিনি কেবল বলেছিলেন, “খেলার মাঠে সবাই আমার প্রতিপক্ষ।

এখানে আমি কাজকে একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি না। আর তাই ম্যাথিউসের আউটটি নিয়ম মেনে দেওয়া হয়েছে।”

অর্থাৎ ম্যাথিউসের আউটের ব্যাপারে কোন আক্ষেপ নেই সাকিবের, তিনি মনে করেন ক্রিকেটের নিয়ম মেনেই আউট দেওয়া হয়েছে।

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস আউট হওয়ায় ক্রিকেটের উপর বিতর্ক

শ্রীলঙ্কা বনাম বাংলাদেশের ম্যাচে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের টাইম আউট আপিল করা এবং সেটি মঞ্জুর করা নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ক্রিকেটে এমন বিতর্ক সচরাচর চলে থাকলেও টাইম আউটের প্রসঙ্গটি ছিল একদমই নতুন। কেননা ক্রিকেটে এর আগে এমন ঘটনার সাক্ষী হয়নি কেউ। এটি ছিল বিশ্বকাপ এবং সম্পূর্ণ ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম কোন খেলোয়াড়কে দেওয়া টাইম আউট।

ক্রিকেটে বিতর্ক উঠেছে মূলত সাকিবের আপিল করা নিয়ে।

অনেক ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে সাকিবের এমন আপিল করা উচিত হয়নি।

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস স্বয়ং স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের কথা বলে সাকিবের উপর দোষ চাপাচ্ছেন।

যদিও এই ব্যাপারে সাকিব বলেছেন তিনি সরাসরি এই আউটের আবেদন করেননি।

মাঠের কোন এক ফিল্ডার এসে সাকিবকে বিষয়টি অবহিত করার পরই সাকিব আম্পায়ারের কাছে টাইম আউটের আবেদন করেন।

তবে সাকিব উক্ত ক্রিকেটারের নাম উল্লেখ করেননি।

বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কার ম্যাচে স্পোর্টসম্যান স্পিরিট

বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কার ম্যাচে স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের বিষয়টি মাথায় রেখে অনেকেই সাকিবের টাইম আউটের আপিলকে দোষ হিসেবে দেখছেন। তবে ক্রিকেটে আইনিভাবে সঠিক সময়ের পূর্বে একজন খেলোয়াড় প্রতিপক্ষ বোলারের বিপক্ষে উপস্থিত হতে না পারলেই তার বিরুদ্ধে টাইম আউটের আপিল জানাতে পারবে প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক।

ঠিক একই কাজটি করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব।

যদিও স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের কথা বলে অনেকেই সাকিবকে গালমন্দ করছেন, তবে এই ব্যাপারে মোটেও আক্ষেপ নেই সাকিবের।

প্রযুক্তির ভূমিকা ও ম্যাচের ভারসাম্য

ক্রিকেটে প্রযুক্তির ভূমিকা অনেক। প্রযুক্তি ছাড়া ক্রিকেটের উইকেট শনাক্ত করার কাজ রীতিমত অচল।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচেও বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছিল বিরোধী দলের উইকেট শনাক্ত করার জন্য।

তবে ম্যাথিউস উক্ত প্রযুক্তির ব্যবহারে মোটেও সন্তুষ্ট ছিলেন না। আইসিসির কাছে তিনি প্রমাণ দিয়েছেন কিভাবে তিনি আউট নন।

তার দেওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে তিনি যখন নেমেছিলেন সে মুহূর্তের সময়।

এভাবেই তিনি তার ক্রিজে আসার পরও ৫ সেকেন্ড বাকি ছিল সেটি প্রমাণ করেছেন।

যদিও আইসিসি এই ব্যাপারে কোন প্রত্যুত্তর কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। ম্যাচের ভারসাম্য বজায় রাখতেই আম্পায়ার টাইম আউট দিয়েছিলেন ম্যাথিউসকে। ক্রিকেটে এমন ঘটনা বিরল হলেও প্রযুক্তির ফলে এই ধরনের উইকেট শনাক্ত করার কাজ সহজ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *