আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩এর প্রাইজ মানি, রানার্স আপ এবং প্রত্যেক টীমের

Home » আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩এর প্রাইজ মানি, রানার্স আপ এবং প্রত্যেক টীমের

আজকের পোস্টে আমরা ২০২৩ ওডিআই ক্রিকেট বিশ্বকাপের বা আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ এর প্রাইজ মানি নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি। চ্যাম্পিয়নদের কত টাকা দেওয়া হবে, রানার্সআপ দলকে কত দেওয়া হবে। সেমিফাইনালের দলসমূহকে কত টাকা দেওয়া হবে। গ্রুপ পর্বের দলদেরকে কত দেওয়া হবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আজকের পোস্টে আলোচনা করা হবে। তো আর দেরি না করে চলুন শুরু করা যাক।

আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ এর জন্য মোট ১০ মিলিয়িন ডলার বা ১ কোটি ডলার (যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি) বরাদ্দ করেছে। ২০১৯ সালেও মোট প্রাইজ মানি একই ছিল। চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ, সেমিফাইনালে হারা টিম, এমনকি যেসব দেশ গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়বে তাদেরকেও প্রাইজ মানি দেওয়া হবে।

তো জেনে নেওয়া যাক কোন দল কত টাকা প্রাইজ মানি পাবে।

আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ বিজয়ীর প্রাইজ মানি

বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন সর্বোচ্চ পরিমাণে টাকা পাবে৷ আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ এর চ্যাম্পিয়নরা পাবে মোট ৪ মিলিয়ন ডলার বা ৪০ লক্ষ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকারও বেশি।

অর্থাৎ মোট ১০ মিলিয়ন ডলার প্রাইজ মানির ৪০ শতাংশ বা আড়াই ভাগের একভাগ পাবে চ্যাম্পিয়ন দেশ।

মোট প্রাইজ মানির প্রায় অর্ধেকই পাবে চ্যাম্পিয়নরা।

আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ এর রানার্সআপ এর প্রাইজ মানি

বিশ্বকাপে যারা রানার্সআপ হবে অর্থাৎ যারা দ্বিতীয় স্থান লাভ করবে তারা ২ মিলিয়ন ডলার বা ২০ লক্ষ ডলার পাবে যা বাংলাদেশ টাকায় ২০ কোটি টাকার বেশি৷ মোট প্রাইজ মানির ২০ শতাংশ বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ পাবে রানার্সআপরা।

মোট বরাদ্দকৃত প্রাইজ মানির ৬০ শতাংশ পাবে খালি ফাইনালিস্টরা।

সেমিফাইনালে খেলা দলদের জন্য প্রাইজ মানি

শেষ চার বা সেমিফাইনালে যে দলসমূহ উঠতে পারবে কিন্তু হারবে তাদের জন্যও রয়েছে প্রাইজ মানি।

সেমিফাইনালে হারা দলকে ৮ লক্ষ ডলার দেওয়া যাবে যা প্রায় ৮ কোটি টাকারও বেশি। যা মোট প্রাইজ মানির ৮ শতাংশ।

সেমিফাইনাল থেকে দুইটি দল বিদায় নেয়।

প্রতিটি দলের জন্য ৮ লক্ষ করে মোট ১.৬ মিলিয়ন বা ১৬ লক্ষ ডলার দেওয়া হয় দুই সেমিফাইনালে হারা দলদের যা ১৬ কোটি টাকার বেশি।

গ্রুপ স্টেজের দলদের প্রাইজ মানি

এমনকি যারা গ্রুপ স্টেজেই বিদায় নিবে সেই দলসমূহকেও প্রাইজ মানি দেওয়া হবে। এটা অনেকটা সান্ত্বনা পুরষ্কারের মতো। গ্রুপ স্টেজ থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দলকে ১ লক্ষ ডলার দেওয়া হবে যা ১ কোটি টাকার বেশি।

সেমিফাইনালে ওঠে মোট ৪টি দল অতএব গ্রুপ স্টেজে বাদ পড়ে বাকি ৬টি দল।

আর প্রতিটি দলকে ১ লক্ষ ডলার করে মোট ৬ দলকে ৬ লক্ষ ডলার দেওয়া হবে যা টাকার অঙ্কে ৬ কোটি টাকার কিছু বেশি। গ্রুপ স্টেজ থেকে বাদ পড়া সব দলকে যে টাকা দেওয়া হয় তার চেয়ে বেশি সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া এক একটি দলকে দেওয়া হয়।

বিশেষ পুরস্কার ও বোনাস

এতো সব পুরষ্কারের পর আরও আবার নানা ধরণের পুরষ্কার ও বোনাস রয়েছে। গ্রুপ স্টেজে প্রতিটি ম্যাচ জেতার জন্য ৪০ হাজার ডলার বা ৪০ লক্ষ টাকার মতো দেওয়া হবে। গ্রুপ স্টেজে মোট ম্যাচ হবে ৪৫ টি। অর্থাৎ মোট গ্রুপ স্টেজের ৪৫টি ম্যাচের জন্য ১.৮ মিলিয়ন ডলার বা ১৮ লক্ষ ডলার বা ১৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে। প্রতিটি দল ৯টি করে ম্যাচ পাবে। অর্থাৎ গ্রুপ স্টেজ ম্যাচ বোনাসের মাধ্যেম একটি দল সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ ৬০ হাজার ডলার বা প্রায় ৪ কোটি টাকার মতো পেতে পারে।

গ্রুপ স্টেজের ম্যাচ বোনাসের পাশাপাশি আরও নানা ধরণের স্পেশাল এওয়ার্ড ও বোনাস রয়েছে।

যেমন: প্রতি ম্যাচের সবচেয়ে ভালো যে খেলছে তাকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ এওয়ার্ড দেওয়া হবে।

এছাড়াও সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী, সর্বোচ্চ উইকেটশিকারকারীও পুরষ্কার পাবে।

এর পাশাপাশি ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট এওয়ার্ড তো দেওয়া হবেই।

এই পুরস্কারসমূহ সাধারণত স্পন্সরের মাধ্যমে দেওয়া হবে তাই এই পুরস্কারগুলোর সঠিক পরিমাব দেওয়া যায়নি।

ক্রিকেটে প্রাইজ মানির প্রভাব

ক্রিকেটে প্রাইজ মানির গুরুত্ব অপরিসীম। অর্থ এ পৃথিবীর সবকিছু। টাকা দিয়ে এ পৃথিবীর আপনার যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন। পাগলেও বুঝে টাকার মূল্য কি।

আর কোনো কিছুর সঙ্গে যখন টাকার লিংক করা হয় তখন ওই কাজের প্রতি মায়া এবং চেষ্টা আরও বেড়ে যায়।

কারণ সেক্ষেত্রে একটা স্বার্থ আছে, টাকার স্বার্থ।

ধরুন আপনাকে একটা কোম্পানিতে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হলো কিন্তু বলা হলো যে আপনাকে কোনো বেতন দেওয়া হবে না।

তখন আপনার কেমন লাগবে? আসলে ক্রিকেট বা যেকোনও স্পোর্টসে এই কারণেই প্রাইজ মানি রাখা হয়৷

আপনি যে কাজটা করছেন ওই কাজের তো একটা উদ্দেশ্য থাকবে হবে, একটা কারণ থাকতে হবে। টাকাই হচ্ছে ওই কারণ।

ক্রিকেটে এই প্রাইজ মানির প্রভাব বিস্তর৷ একজন ক্রিকেটার খেলে মূলত তার দেশের জন্য, তার মাতৃভূমির জন্য।

এর পাশাপাশি যদি টাকারও স্বার্থ থাকে তাহলে খেলোয়াড় তার সম্পূর্ণ দিবে।

এছাড়াও ক্রিকেটের বিকাশে এসকল প্রাইজ মানি বা পুরষ্কারের ভূমিকা অনেক।

একজন যে ক্রিকেট খেলা শিখছে সে যখন জানতে পারবে যে ক্রিকেট থেকে তার শখ মেটার পাশাপাশি, ভালো পরিনাণ আয় সম্ভব, তখন তার ক্রিকেট খেলার ও ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছা আরও বৃদ্ধি পাবে।

সে আরও উৎসাহিত হবে। এভাবে আমরা আমাদের দেশের জন্য আরও প্রতিভাশালী ছেলেদের পাব।

উপসংহার

আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ এ আইসিসি কর্তৃপক্ষ নিয়মটা খুবই সুন্দর করেছে।

সব দলই টাকা পাবে তারা ভালো খেলুক কিংবা খারাপ খেলুক। এই প্রাইজ মানির মাধ্যমে ক্রিকেটের বিকাশ ঘটে।

যদি এই ১০ মিলিয়ন ডলার অন্যান্য অনেক স্পোর্টসের তুলনায় অনেকটাই কম৷ যেমন: ২০২২ সালের ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপের মোট প্রাইজ মানি ছিল ৪৪০ মিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৪ শত কোটি টাকা। খালি আর্জেন্টিনাই আয় করে ৪২ মিলিয়ন ডলার বা ৪ শত কোটি টাকার বেশি। একটা রাউন্ড অফ ১৬ থেকে বাদ পড়া দলকে ১৩ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে যা পুরো ২০২৩ মেন্স ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপের প্রাইজ মানির চেয়ে বেশি।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ যা একটি ক্লাবভিত্তিক খেলা তার চ্যাম্পিয়নের জন্য প্রাইজ মানি ২০ মিলিয়ন ডলার।

যদিও এর পিছে বেশ কিছু কারণও রয়েছে।

যেমন ওয়ার্ল্ডওয়াইড খ্যাতির অভাব, স্পন্সর ও স্পন্সের দেওয়া টাকার পরিমাণ তুলনামূলক কম, দর্শক তুলনামূলক কম ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *