আইসিসি বিশ্বকাপ এর জন্য ভারতের ভিসা পাওয়া শেষ দল পাকিস্তান

Home » আইসিসি বিশ্বকাপ এর জন্য ভারতের ভিসা পাওয়া শেষ দল পাকিস্তান

ভারতে আইসিসি বিশ্বকাপ এর ভিসা পাওয়া শেষ দল পাকিস্তান। অবশেষে সকল বিতর্ক সমাপ্ত করে বিশ্বকাপ গন্তব্য ভারতে পাড়ি জমাবে পাকিস্থান দল।

আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৩ এর খেলা শুরু হবে আগামী ৫ অক্টোবর তারিখ অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচের মধ্য দিয়ে। বহুল প্রতীক্ষিত এই বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট বছরের শুরুতে হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে যায়। এবার সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপ।

আইসিসি বিশ্বকাপ ট্রফির অন্যতম দাবিদার দুই দল ভারত এবং পাকিস্থান। ক্রিকেট বিশ্বে ভারত এবং পাকিস্থান দুই ক্রিকেট জায়েন্ট মুখোমুখি মানেই ভিন্ন কিছু। বরাবরের মতই ভারত পাকিস্থান রয়েছে সকল শিরোনামের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দলগুলো একেক করে পাড়ি জমিয়েছে ভারতে। তবে পাকিস্থান একমাত্র দল যারা ভ্রমণের কেবল ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে ভিসা অনুমোদন কার্য সম্পাদন করতে সক্ষম হয়। আর এটি নিয়েই যত বিতর্কের সৃষ্টি। শেষ দল হিসেবে পাকিস্থানের ভিসা গ্রহণে বিলম্ব নিয়ে বিস্তারিত থাকছে আজকের পর্বে।

আইসিসি বিশ্বকাপ এর জন্য ভিসা প্রক্রিয়া

ওডিআই আইসিসি বিশ্বকাপ ২০২৩ টুর্নামেন্টের জন্য দশটি দলকে যেতে হবে ভারত। কারণ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভারতে। ইতিমধ্যেই নয়টি দল বিশ্বকাপের উদ্দেশ্য নিয়ে রওনা করেছে ভারতে।

তবে ভিসা বিলম্ব নিয়ে শেষ দল হিসেবে ভারতে যেতে হয় পাকিস্তানকে।

আইসিসি বিশ্বকাপ এর ভিসা প্রক্রিয়াটি সাধারণ ভিসা প্রক্রিয়ার ন্যায় অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ভিসা অনুমোদন পাওয়ার জন্য ভারতের ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আবেদন ফর্ম জমা দিতে হয়।

অতঃপর নির্দিষ্ট কারণ এবং বিস্তারিত ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয় দলগুলোকে।

সকল আইনি বৈধতা যাচাই করার পর দলগুলোকে ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপের উদ্দেশ্য নিয়ে দলগুলো ভারতে পাড়ি জমিয়েছে।

পাকিস্থান আগে ভিসার জন্য আবেদন সম্পন্ন করলেও তাদের ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

এটি নিয়ে বর্তমানে ক্রিকেট মহলে চলছে বিভিন্ন দ্বন্দ্বের সমীকরণ।

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক

ভারত–পাকিস্তানের ক্রিকেট দ্বৈরথ মানেই বিশ্ব ক্রিকেটে এক বিস্ময়। অনন্তকাল থেকেই ভারত বনাম পাকিস্থান প্রতিযোগিতা ক্রিকেটের একটি অন্যতম সাড়া জাগানো প্রতিযোগিতা। ভারত বনাম পাকিস্থানের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নয়। মূলত রাজনৈতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক থেকেই ক্রিকেট পর্যন্ত এই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি।

১৯৪৭ সালে ভারত এবং পাকিস্থান এই দুটি দেশ আলাদা হয় ব্রিটিশ ভারত নাম ভেঙে।

এরপর থেকেই দুটি দেশের মাঝে রাজনৈতিক কুসম্পর্ক বিরাজমান।

মূলত এই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভারত এবং পাকিস্থানের মধ্যকার দুটি দেশের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছে।

ভারত এবং পাকিস্থান দুই ক্রিকেট জায়েন্ট ইতিপূর্বে শতাধিকবার মুখোমুখি হয়।

ভারত বনাম পাকিস্থানের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বলা হয়ে থাকে ক্রিকেটের এল ক্লাসিকো।

তবে ভারত এবং পাকিস্থানের মধ্যকার বেশিরভাগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে।

রাজনৈতিক সমস্যার কারণে একটি দেশ সফর করেনা অপর দেশে।

যদিও বর্তমানে ভারত এবং পাকিস্থান দলের ক্রিকেটাররা রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা ভুলে গিয়ে খেলার বাইরে ভালো সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে।

মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের মধ্যকার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। তবে ভারত বনাম পাকিস্থান ম্যাচ মানেই ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম এল ক্লাসিকো।

রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দুটি দেশের সম্পর্ক কূটনৈতিক হলেও বর্তমান ক্রিকেটে দুটি দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখা যায়।

তবে ভারত পাকিস্তান মানেই সময়ে অসময়ে যত বিতর্ক।

পাকিস্তানের বিলম্ব সম্মুখীন

বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি এক সপ্তাহের কম সময়। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দলগুলোর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। ইতিমধ্যেই দশটি দলের মধ্যে নয়টি ভারতের মাটিতে পা রেখেছে বিশ্বকাপের জন্য। তবে ভারতে বিশ্বকাপের উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হয় পাকিস্তানকে।

ভারতে যাওয়ার ভিসা অনুমোদনের আবেদন করলেও বিলম্বের সম্মুখীন হতে হয় পাকিস্থানকে। তবে সে বিলম্ব মোটেও দীর্ঘ সময়ের ছিলনা।

বিশ্বকাপের উদ্দেশে দলগুলোকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয় আগস্ট মাসের শেষের দিকে।

যেখানে বেশিরভাগ দল তাদের ভিসা প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করেছিল।

তবে এশিয়া কাপ টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি পাকিস্থানে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দ্বিধার সম্মুখীন হয়ে ভিসা আবেদনে বিলম্ব করে পাকিস্তান।

যদিও পাকিস্থান পাসপোর্ট ব্যতিরেকে ভিসার আবেদন করে, যেটির বৈধতা না থাকায় ভারতের ভিসা কমিশন কতৃক সেটি মেনে নেওয়া হয়নি।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর তারিখে পাসপোর্ট জমার মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারা।

যেটি অনুমোদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিলম্বের সম্মুখীন বলে দাবি করে পাকিস্থান।

তবে পাকিস্থানের পাসপোর্ট জমায় বিলম্বের কারণে তাদের শেষ দল হিসেবে ভিসা গ্রহণ করতে হয়। তবে এই বিলম্ব কেবল সপ্তাহের।

এই ঘটনায় পাকিস্থান ক্রিকেট বোর্ড কতৃক আইসিসিকে নালিশ জানানো হলে আইসিসি নিজস্ব হস্তক্ষেপে কিছুটা দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিসা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। ফলাফল হিসেবে ভারতে যাওয়ার কেবল ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে ভিসা অনুমোদন পেয়েছে পাকিস্থান।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সমাধান

ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বিভিন্ন সময়ে লক্ষ্য করা যায়। এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টকে ঘিরেও পাকিস্থান এবং ভারতের মাঝে দ্বন্দ্বের বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। তবে এটি ভারতের পাকিস্থানে যেতে আপত্তি করার ফলাফল।

মূলত নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত এশিয়া কাপ খেলতে পাকিস্থানে যেতে আপত্তি জানায়।

ফলে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয় শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্থানে।

এরপর বিশ্বকাপে পাকিস্থানের যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি হলেও সেসব সমাধান হয়।

ভিসা জটিলতার সমাপ্তিতে শেষ দল হিসেবেই ভারতে ভ্রমণ করেছে পাকিস্থান।

আইসিসি বিশ্বকাপ এর উপর প্রভাব

পাকিস্থানের ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতা বিশ্বকাপ এবং ক্রিকেটের উপর কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রভাব রাখে। বিশেষ করে অনেকেই ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতার বিষয়টির সাথে ভারত এবং পাকিস্থানের রাজনৈতিক জটিলতার বিষয়টি এক করে দেখছেন।

তবে পুরো ঘটনার সাথে পাকিস্থান এবং ভারতের মধ্যকার রাজনৈতিক জটিলতার কোনো সম্পর্ক নেই।

এটি কেবল পাসপোর্ট জমাদানের বিলম্বের কারণে হয়েছে।

যদিও পাকিস্থানের ভিসা প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি নিয়ে কড়া সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অনেকেই পুরো বিষয় সম্পর্কে না জেনে মন্তব্য করছেন। তবে এই প্রতিবেদন পড়া শেষে নিশ্চই আপনি বিষয়টি সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *