এশিয়া কাপ ২০২৩ – এ বৃষ্টি এবং ভুল হিসাব নিকাশ

Home » এশিয়া কাপ ২০২৩ – এ বৃষ্টি এবং ভুল হিসাব নিকাশ

এশিয়া কাপ ২০২৩ – এ বৃষ্টি এবং ভুল হিসাবনিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই পর্বে। এশিয়া কাপ শুরু হলেও এটিকে নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা চলছে। এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টকে ঘিরে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বৃষ্টির কারণে ম্যাচগুলোর বন্ধ হয়ে যাওয়া। মূলত পাকিস্থান আয়োজক দেশ হলেও ভারতের আপত্তির কারণে শ্রীলংকায় এশিয়া কাপের বেশিরভাগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতেই যত দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া খারাপ থাকায় প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই এখন বৃষ্টি হানা দিচ্ছে। বহুল আলোচিত ভারত বনাম পাকিস্তান এর মধ্যকার হাই ভোল্টেজ ম্যাচটিও শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে বাতিল করা হয়।

একনজরে এশিয়া কাপ ২০২৩

এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হচ্ছে এশিয়া কাপ। গত মাসের ৩০ তারিখ পাকিস্তান বনাম নেপালের ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুভ সূচনা হয়েছিল এশিয়া কাপ ২০২৩ আসরের। ইতিমধ্যেই এশিয়া কাপের বেশ কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে গ্রুপ পর্ব থেকে ৪টি দল সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে ইতিমধ্যে।

নিয়ম অবগত না থাকায় শ্রীলঙ্কার কাছে ২ রানের ব্যবধানে হেরে এশিয়া কাপ ২০২৩ থেকে বিদায় নিয়েছে আফগানিস্থান। অন্যদিকে এশিয়া কাপে একটিও ম্যাচ জিততে পারেনি নতুন দল নেপাল। যদিও শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে তারা দুর্দান্ত খেলেছিল। কিন্তু ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ সহজেই ১০ উইকেটের জয় পায়।

এশিয়া কাপ আসরের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শেষ হয়ে বর্তমানে চলছে সুপার ফোরের ম্যাচ। টুর্নামেন্ট আয়োজনে সবকিছু ঠিক থাকলেও বৃষ্টির কারণে এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা যাচ্ছে না। শ্রীলংকায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই বৃষ্টির প্রভাব দেখা মিলছে। যেটি টুর্নামেন্ট পরিচালক কিংবা দর্শক কারো জন্যই স্বস্তির নয়।

বৃষ্টি: অবাঞ্ছিত একটি অতিথি

এশিয়া কাপের সুপার ফোরের খেলা শুরু হয়েছে। ম্যাচগুলো কলম্বো রাজ্যের আর. প্রেমাদাসা স্টুডিয়ামে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কলম্বো এর আবহাওয়ার পূর্বাভাস এটা বলছে যে আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টির সম্ভবনা আরো তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে। ফলে এশিয়া কাপের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা।

এশিয়া কাপের সুপার ফোরের পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী এদিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা ৮০% এর মত রয়েছে।

আর তাই বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচ পন্ড হওয়া নিয়ে রয়েছে একটি দুশ্চিন্তার বিষয়।

আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বৃষ্টির সম্ভবনা কতখানি সেটা নিচে উল্লেখ করা হলো।

৯ সেপ্টেম্বর, শ্রীলঙ্কা বনাম বাংলাদেশ: বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ৮০%

১০ সেপ্টেম্বর, ভারত বনাম পাকিস্তান: বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ৯০%

১২ সেপ্টেম্বর, শ্রীলঙ্কা বনাম ভারত: বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে ৮০%

১৪ সেপ্টেম্বর, শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান: বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ৭০%

১৫ সেপ্টেম্বর, ভারত বনাম বাংলাদেশ: বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ৬০%

১৭ সেপ্টেম্বর, ফাইনাল: বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে ৬০%

whether.com এর উক্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী দেখা জয় শ্রীলংকায় এশিয়া কাপের বিগত ম্যাচগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা অনেক।

প্রতিটি ম্যাচেই ৫০% এর বেশি সম্ভবনা আছে বৃষ্টির হানা দেওয়ার। যদিও ইতিপূর্বে বৃষ্টির সম্ভবনা থাকায় এশিয়া কাপের বাকি ম্যাচগুলো কলম্বো থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা শোনা গিয়েছিল।

শ্রীলঙ্কার অন্য ভূমিতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে গুঞ্জন উঠলেও এখনও পর্যন্ত এই ব্যাপারে অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রযুক্তির ভূমিকা

একটি অঞ্চলের আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাস পাওয়ার জন্য প্রযুক্তির ভূমিকা অনেক। আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া এটি অনুমান করা সম্ভব ছিলনা। এখন যেকোনো ম্যাচের পূর্ব থেকেই আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া সম্ভব। যেটি প্রযুক্তির কল্যাণে সম্ভব হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুমান প্রযুক্তি মূলত বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রচুর পরিমাণে তথ্য গ্রহণ করে থাকে।

পরবর্তীতে সম্ভাব্য অনুমান করার জন্য তথ্যগুলো বিশ্লেষণ সংক্রান্ত কার্যক্রম করে থাকে।

কম্পিউটারের সেন্সর থেকে মূলত এই ডাটা পাওয়া যায়।

এসব সেন্সর দ্বারা তাপমাত্রা থেকে বাতাসের গতি, আর্দ্রতা এবং চাপ পর্যন্ত সবকিছু পরিমাপ করে সম্ভাব্য ফলাফল অনুমান করা যায়।

আর তাই আবহাওয়ার অগ্রিম পূর্বাভাস এবং মূল ফলাফল অনেকটাই সত্যি হয়ে থাকে।

ভুল গণনা: কৌশল থেকে নির্বাচন পর্যন্ত | এশিয়া কাপ ২০২৩

এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টের জন্য শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ম্যাচগুলোর আয়োজন করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত বলে প্রমাণিত হচ্ছে। একে একে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই বৃষ্টির কারণে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

এটা সবচেয়ে হতাশার যে বহুল প্রত্যাশিত ভারত এবং পাকিস্থানের ম্যাচটিও এক ইনিংস শেষে বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে যে সামনের দিনগুলোতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা অধিক।

এক্ষেত্রে শ্রীলংকার অন্য রাজ্যে ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়া যেত।

কেননা এতে বৃষ্টির কারণে এসিসি কতৃপক্ষ এবং টিভি চ্যানেলগুলো মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

কৌশল এবং নির্বাচনে সাময়িক ত্রুটি থাকলেও ম্যাচগুলো হাম্বানটোটাতে সরিয়ে নিলে এই সমস্যা অনেকটা লাঘব হতে পারে।

কেননা হাম্বানটোটাতে বৃষ্টির সম্ভবনা নেই সামনের দিনগুলোতে।

ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টের উন্নতির জন্য পরামর্শ

এশিয়া টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো পাকিস্থানের মুলতান এবং লোহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডি এবং কলম্বোতে বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পাকিস্থানের মাঠে বৃষ্টিজনিত সমস্যা দেখা না দিলেও শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত প্রায় প্রতিটি ম্যাচে বৃষ্টির দেখা মিলছে।

এক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষার স্বার্থে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা রাজ্যে ম্যাচগুলো আয়োজন করা যেতে পারে।

শ্রীলঙ্কার এই অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন যাবত বৃষ্টি হওয়ার তেমন সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না।

এশিয়া কাপের শিডিউলে ভারত এবং পাকিস্থানের আরেকটি বড় ম্যাচ রয়েছে সুপার ফোরে।

উক্ত ম্যাচেও বৃষ্টির সম্ভবনা প্রবল। আর তাই হাই ভোল্টেজ ম্যাচগুলো বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে ভেন্যু পরিবর্তন আবশ্যক।

ক্রিকেট বোর্ড ও গভর্নিং বডির প্রতিক্রিয়া

এশিয়া কাপ ২০২৩ ক্রিকেটকে ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। তবে শ্রীলঙ্কার মাঠে ম্যাচগুলো বৃষ্টির কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ক্রিকেট বোর্ড এবং গভর্নিং বডির মাঝে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এশিয়া কাপের ম্যাচগুলো বৃষ্টির কারণে বাধাগ্রস্ত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে এসিসি কতৃপক্ষ।

এছাড়াও ভারতের অন্যতম রিভিউ সম্প্রচারক স্টার স্পোর্টস অধিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

আর তাই ক্রিকেট বোর্ড এবং গভর্নিং বডির শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

একইসাথে ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে এটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। শীঘ্রই বাকি ম্যাচগুলো কলম্বো থেকে ইনি ভেনুতে সরিয়ে নেওয়া না হলে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *