এশিয়া কাপ ২০২৩ সম্পর্কে পাঁচটি আকর্ষণীয় তথ্য

Home » এশিয়া কাপ ২০২৩ সম্পর্কে পাঁচটি আকর্ষণীয় তথ্য

আসন্ন এশিয়া কাপ ২০২৩ সম্পর্কে পাঁচটি আকর্ষণীয় তথ্য নিয়ে থাকছে আজকের পর্ব।

শত অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৩। উক্ত খেলায় অংশ নিতে দলগুলো ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইতিমধ্যেই অনেক দল তাদের ম্যাচের উদ্দেশ্য নিয়ে হোস্ট দেশগুলোতে পাড়ি জমিয়েছে। খেলার সকল তারিখ, স্থান, সময় নির্ধারণ শেষ। এখন শুধুই এশিয়া কাপ ২০২৩ ক্রিকেটের উদ্বোধনী মুহূর্তের অপেক্ষা ক্রিকেট ভক্তদের।

৩০ আগস্ট তারিখটা সকলের অপেক্ষার অবসান হওয়ার দিন।

এদিন উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্থান এবং নেপালের মধ্যকার লড়াই দেখবে এশিয়া কাপ ভক্তরা।

এশিয়া কাপে এবার প্রতিটি দল তুলনামূলক শক্তিশালী। তাই জমজমাট হতেই পারে এশিয়া যাওয়ার ২০২৩ মৌসুমের খেলা।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এশিয়া কাপের ৫টি আকর্ষণীয় ঘটনা সম্পর্কে।

১: হোস্ট কান্ট্রি সারপ্রাইজ | এশিয়া কাপ ২০২৩

এশিয়া কাপ ২০২৩ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশ নিয়ে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছিল। এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ পাকিস্থানে হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে শ্রীলংকায় যৌথভাবে এশিয়া কাপ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এশিয়া কাপের হোস্ট দেশ নিয়ে এই বিড়ম্বনার কারণ ছিল ভারত এবং পাকিস্থানের মধ্যকার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।

ইতিপূর্বে ভারত বনাম পাকিস্থানের মধ্যকার ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিরপেক্ষ ভূমিতে।

তবে পাকিস্থানে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভারতীয় দল পাকিস্থানে এশিয়া কাপ খেলতে যাওয়ার অনুমতি পায়নি।

এতে নিরপেক্ষ ভূমি হিসেবে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হবে ভারতের সকল ম্যাচগুলো।

যেখানে এশিয়া কাপের ৪টি ম্যাচ পাকিস্থানের ভূমিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং বাকি ৯টি অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলংকায়।

২: নতুন ফরমেটের খেলা | এশিয়া কাপ ২০২৩

এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিগত মৌসুমগুলোতে ১৫টি পর্ব শেষ সম্পন্ন করেছে। এটি হচ্ছে এশিয়াকাপ ২০২৩ ক্রিকেটের ১৬তম পর্ব, যেটি অনুষ্ঠিত হবে ওডিআই ফরমেট অনুযায়ী।

সর্বমোট ৫০ ওভারের খেলায় সমাপ্ত হবে প্রতিটি দলের ম্যাচগুলো।

তবে ২০২৩ মৌসুমের জন্য এটি নতুন ফরমেট বলা যায়। কেননা বিগত ২০২২ এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল টি টোয়েন্টি ফরমেটে।

২০১৮ সালের পর ২০২৩ মৌসুমে এসে আবারও ওডিআই ফরমেটে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া কাপের আসর।

সে অনুযায়ী ২০১৮ সালের বিজয়ী দল ছিল ভারত, যেখানে বাংলাদেশ দল রানার্স আপ পেয়েছিল।

তবে ২০২২ এশিয়া কাপ জিতেছিল শ্রীলঙ্কা, তাই এশিয়া যাওয়ার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দল শ্রীলঙ্কা।

২০১৮ সালের পর আবারো নতুন করে এশিয়া কাপের ওডিআই ফরমেটে খেলা দেখবে দর্শক।

৩: উদীয়মান ক্রিকেটিং দেশ

এশিয়া কাপে উদীয়মান ক্রিকেটের দেশ হিসেবে প্রথমেই নেপালের উদাহরণ দেওয়া যায়। কেননা তারা এইবার ইমার্জিং এশিয়া কাপ জিতে এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

এটি তাদের দেশ এবং ক্রিকেট পর্যায়ে একটি বিশাল অর্জন।

এশিয়ার মধ্যে উদীয়মান দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশকে বিবেচনা করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ যদিও এশিয়া কাপে শিরোপা জিততে পারেনি এখন। তবে শেষ কয়েকটি মৌসুমে তারা ভালো করেছে।

সবশেষ তিনটি এশিয়া কাপে দুইবার ফাইনাল খেলেছে তারা। এছাড়াও আফগানিস্থান তাদের জায়গা থেকে ভালো করছে।

সর্বোপরি, এশিয়ার সফল দলগুলো যেমন ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্থান। তারা জয়ের ধরা অব্যাহত রেখেছে।

৪: তারকা খেলোয়াড়ের প্রত্যাবর্তন

এবারের এশিয়া কাপে ভক্তরা বড় বড় ক্রিকেট জায়ান্টদের ম্যাচ উপভোগ করতে চলেছে। একইসাথে বলতে হয়, তারকা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখতে চলেছে এবার ক্রিকেট দর্শকরা।

প্রথমেই বলতে হয় ভারতের বিরাট কোহলির কথা। ভারতীয় দলের অন্যতম ব্যাটসম্যান তিনি।

বিরাট কোহলি একাই ভারতীয় দলকে জেতানোর ক্ষমতা রাখেন। এশিয়া কাপে শুরু থেকেই তার পারফরম্যান্সের উপরে নজর থাকবে।

এছাড়া দলে থাকবে রোহিত শর্মা, শুবমান গীল, লোকেশ রাহুল, শ্রেয়াস আইয়ার এর মত ফর্মে থাকা তারকা ব্যাটসম্যান।

পাকিস্থান দলে রয়েছে তারকা ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান। সম্প্রতি ভালোই ফর্মে আছেন তিনি।

আফগানিস্থান দলে রহমানুল্লাহ্ গুরবাজ, রশিদ খানদের পারফরম্যান্স নিয়ে থাকছে বিশেষ নজর।

এছাড়াও বাংলাদেশ দলে আছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, ক্লাসিক্যাল ব্যাটসম্যান লিটন দাস, অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিক, কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ আরো অনেকে।

এছাড়াও বাকি দলগুলোতে বিভিন্ন তারকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতি লক্ষ করা যাবে এবারের এশিয়া কাপে।

আর তাই সব মিলিয়ে ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এটি একটি সুখকর খবর যে তারা তারকা খেলোয়াড়দের একে অপরের মধ্যকার লড়াই সরাসরি উপভোগ করতে যাচ্ছে।

৫: প্রযুক্তিগত অগ্রগতি | এশিয়া কাপ ২০২৩

এবারের এশিয়াকাপ ২০২৩ টুর্নামেন্টে অন্যান্যবারের তুলনায় অনেকটাই আপডেট টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। নিচে আসন্ন এশিয়া কাপে ব্যবহৃত হতে যাওয়া প্রযুক্তিগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

স্পাইডার ক্যাম এবং ড্রোন

একটি ম্যাচকে পুরোপুরিভাবে সরাসরি ভিডিও করার ক্ষেত্রে স্পাইডার ক্যাম এবং ড্রোন এর মত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। স্পাইডার ক্যাম এমন এক ধরনের ক্যামেরা যেটির মাধ্যমে উন্নত ফুটেজ এবং হাই রেজুলেশনের ভিডিও ধারণ করা সম্ভব। এটির মাধ্যমে মাঠের বিভিন্ন দিক কভার করা সম্ভব। ফলে টিভিতে একটি ম্যাচকে দর্শকরা তৃপ্তি করে উপভোগ করতে পারেন।

স্নিকোমিটার প্রযুক্তি

স্নিকোমিটার প্রযুক্তি বলতে মূলত আল্ট্রাএজ প্রযুক্তিকে বোঝানো হয়েছে। প্রত্যেকেই ক্রিকেটে আল্ট্রাএজ এর ব্যবহার সম্পর্কে জানেন। একটি বল ব্যাটের সংস্পর্শে এলে সেটি আল্ট্রাএজ দ্বারা বোঝা গিয়ে থাকে। স্নিকোমিটার প্রযুক্তি এশিয়া কাপে ব্যবহার করা হবে।

বল ট্রেকিং সিস্টেম

ক্রিকেটে বল ট্রেকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় এলবিডব্লিউ উইকেট এর ক্ষেত্রে। ক্রিকেটে বল ট্রেকিং প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক। এশিয়া কাপে এবারও বল ট্রেকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

স্মার্ট স্ট্যাম্প এবং বেল প্রযুক্তি

স্মার্ট স্ট্যাম্প বা বেল হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ স্ট্যাম্প, যা বিদ্যমান ক্রিকেটে ব্যবহৃত হয়।

এশিয়া কাপে স্মার্ট স্ট্যাম্প এবং বেল ব্যবহার করা হবে। এতে বল স্ট্যাম্পে আঘাত করলেই উভয়েই ইলেকট্রনিক সংকেত দেখাবে।

খেলোয়াড়দের পারফরমেন্স বিশ্লেষণ প্রযুক্তি

এই প্রযুক্তি দ্বারা প্রতিটি খেলোয়াড়ের একটি ম্যাচের ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়।

ক্রিকেটে আমরা প্রায় দেখি একজন খেলোয়াড়ের বিভিন্ন ধরনের ডাটা এবং উপাত্ত ম্যাচের মাঝে দেখানো হচ্ছে।

মূলত এটি হচ্ছে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা প্রযুক্তির কাজ। এশিয়াকাপ ২০২৩ এ এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রতিটি খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *