ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩: যে ৫ জন ইমার্জিং প্লেয়ারের দিকে নজর রাখতেই হবে

Home » ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩: যে ৫ জন ইমার্জিং প্লেয়ারের দিকে নজর রাখতেই হবে

ভারতে ৫ই অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলেছে ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩, সাদা বলের বিশ্বকে একত্রিত করবে এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।

সারা বিশ্বের সকল ক্রিকেট ভক্তরা বেন স্টোকস, বিরাট কোহলি এবং ট্রেন্ট বোল্টের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের ২২ গজের যুদ্ধ দেখার জন্য মুখিয়ে থাকবেন এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তবে তারা যে ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ -এ নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উত্থানের দিকেও চেয়ে থাকবেন তাও ঠিক।

এই নিবন্ধে এমনই পাঁচজন প্লেয়ারদের নাম রইল যাদের দিকে নজর থকবে সারা বিশ্বের।

নুর আহমদ (আফগানিস্তান)

দর্শকদের জন্য এটা সর্বদাই খুবই এক্সাইটিং হয় যখন একটু ভিন্ন কোনো প্লেয়ার আসে অসাধারণ স্কিলের সাথে।

ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ -এ খেলতে নামা ১৮ বছর বয়সী আফগানিস্থানের নূর অবশ্যই এই তালিকাতে আসবে।

হাই অ্যাকশন এবং ভাল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত গতি সহ একজন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার।

 তিনি আফগানিস্তানের হয়ে তার অনূর্ধ্ব-১৯ অভিষেক করেছিলেন যখন, তখন তাঁর বয়েস ছিল মাত্র ১৪ বছর।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক করেন এবং তারপরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে তিনি ৪ উইকেট নিয়েছিলেন মাত্র ১০ রান খরচ করে।

 গুজরাটের হয়ে আইপিএলে খেলা নুর  ভারত সহ সারা বিশ্বের অসংখ্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ও তাদের সমর্থকদের কাছে তার চাহিদা প্রমাণ করেছেন। 

ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ -এ তিনি তার আইডল রশিদ খানকে সাহায্য করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক-আপ দেবেন।

মাথিশা পাথিরানা (শ্রীলঙ্কা)

2019 বিশ্বকাপের পর অনবদ্য এবং একজন লেজেন্ড লাসিথ মালিঙ্গার অবসরের পর থেকে, শ্রীলঙ্কা এমন একজন প্রতিভাবান জোরে বোলারের সন্ধান করছে।

 যে ইনিংসের শেষের দিকে উইকেট নিতে এবং একই সাথে ব্যাটসম্যানদের কম রানের বেঁধে রাখতে পারবে।

ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ -এ পাথিরানা তাদের জন্য সম্ভাবত সবচেয়ে পছন্দের চয়েস হতে চলেছে তা বলা যেতেই পারে।

এছাড়াও একজন স্লিঙ্গার এবং তার রোল মডেল মালিঙ্গার চেয়েও লোয়ার আর্ম অ্যাকশন সহ, ২০ বছর বয়সী এই স্পিডস্টার ইয়র্কারের প্রতি ঝোঁক সহ সকলেরই নজর কাড়েন।

এরপর যখন এমএস ধোনি তাকে ২০২২ সালের শেষের দিকে চেন্নাই -এর আইপিএল স্কোয়াডে অ্যাডাম মিলনের বদলি হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন।

 তখন দ্রুত তিনি সকলের নজরে নিয়মিত পড়তে শুরু করেন।

এরপর জুনে তার ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

তবে ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ -এ শ্রীলঙ্কাকে যদি দ্বিতীয়বার ট্রফি নিশ্চিত করতে হয় তাহলে অবশ্যই ‘বেবি মালিঙ্গা’, মাথিশা পাথিরানাকে একটি বড় ভুমিকা নিতে হবে।

গাস অ্যাটকিনসন (ইংল্যান্ড)

ইংল্যান্ড যখন ২০১৯ ওয়ার্ল্ডকাপ  জিতেছিল, তখন তাদের পেস ব্যাটারি সবচেয়ে বেশি তাদের নির্ভরতা দিয়েছিল।

জোফরা আর্চার এবং মার্ক উডের পেস জুটি সেসময় তাদের দলের সবচেয়ে দ্রুতগামী ছিল, যারা ধারাবাহিক ভাবে ঘন্টায়  ৯০ মাইল বেগের নিয়মিত গতিতে বল করতে পারে।

উড এবছর ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ এর জন্যে আবার ফিরে এসেছে, কিন্তু আর্চার এখন দীর্ঘমেয়াদী কনুইয়ের চোটের কারণে ক্রিকেটের সবথেকে বড় মহাযোজ্ঞে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

যদিও সে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ -এ ইংল্যান্ড দলে অফিসিয়াল ভাবে রিজার্ভ থাকবে।

সেকারণেই এবারে পেস বোলিং -এর ব্যাটনটি তুলে দেওয়া হয়েছে গ্যাস অ্যাটকিনসনের কাছে।

২৫ বছর বয়সী এই পেসার চলতি বছরের শুরুর দিকের কিছু দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে নিজেকে পরিচিত করান।

সেপ্টেম্বরে তিনি নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজের জন্য ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলে ডাকও পেয়েছিলেন।

সেসময় তিনি তিনটি ম্যাচে মাত্র একটি উইকেট নিয়েছেন, তবে প্রতিশ্রুতিমান যা ইংলিশ জোরে বোলার নিয়মিত ভাবে ঘন্টায় ৯৫ মাইল বেগে বল করতে পারেন।

যাকে ঘিরে এখন এই দেশের ক্রিকেট সমর্থকরা ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ -কে ঘিরে স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিয়েছে।

তেজা নিদামানুরু (নেদারল্যান্ডস)

প্রত্যেক প্রত্যেক ভারতীয় ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে ভারতের নীল জার্সিতে ক্রকেট বিশ্বকাপে একটি ম্যাচে অন্তত খেলার।

তবে ভারতে সব প্লেয়ারের সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না।

 তবে ২৯-বছর-বয়সী নিদামানুরুর ক্ষেত্রে ঘটনাটি কিছুটা অন্যরকম ঘটেছে।

যিনি দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের বিজয়ওয়াড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিন্তু বড় হয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডে।

২০২২ সালের মে মাসে নিদামানুরু নেদারল্যান্ডসের হয়ে ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ -এ যোগ্যতা অর্জন করে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেকেই একটি দুর্দান্ত অর্ধশতক করেন।

তবে, জুনে জিম্বাবুয়েতে দুইবারের ওয়ার্ল্ডকাপ জয়ী দলের বিপক্ষে তার ৭৬ বলে ১১১ রান ছিল, যেম্যাচে ডাচেরা স্কোরবোর্ডে মোট রান তুলেছিল ৩৭৫।

 সেই ম্যাচেই বিশ্ববাসীর আছে তিনি নিজেকে একজন প্রতিশ্রুতিমান ক্রিকেটার হিসেবে তুলে ধরেন।

 সেই ম্যাচে সুপার ওভারে হেরে যাওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ডকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়।

অন্যদিকে ডাচরা টেবিলে শীর্ষে থেকে ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ -এ তাদের জায়গা পাকা করে নেয়।

তৌহিদ হৃদয় (বাংলাদেশ)

অনূর্ধ্ব ১৯-এর সময় থেকেই, হৃদয়কে ৫০-ওভারের ক্রিকেটের একজন রত্ন হিসাবে বাছাই করা হয়েছিল।

এই প্রতিভাবান মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান যেম্যাচে বাংলাদেশকে তাদের প্রথম ওয়ার্ল্ডকাপ  ফাইনালে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিল।

২২ বছরের হৃদয় টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্য উপভোগ করছেন আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজের ঠিক পরপরই।

যখন মার্চ মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যখন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য তাকে জাতীয় দলে ডাকা হয়।

তিনি ১৭টি ওয়ানডেতে পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন। সম্ভবত তার পরামর্শদাতা মুশফিকুর রহিমের উপহার দেওয়া একটি ব্যাট নিয়ে ভারতে আয়জিত ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৩ -এ আসতে চলেছেন।

যার কাঁধে ভর করে এখন থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকেরা ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *