গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ইনজুরি সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়াকে সেমিফাইনালে নিয়ে যান

Home » গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ইনজুরি সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়াকে সেমিফাইনালে নিয়ে যান

সেমিফাইনালে তুলেছে

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল নাটকীয় ফ্যাশনে ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার জায়গা পাকা করার জন্য সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একটি দুর্দান্ত ওডিআই ইনিংস তৈরি করেছিলেন।

প্রবীণ অলরাউন্ডার নিজের চোটকে অস্বীকার করেছিলেন, যা তাকে অপরিহার্যভাবে এক পায়ে ব্যাটিং করে একটি অত্যাশ্চর্য ডাবল সেঞ্চুরি করেন।

 মঙ্গলবার মুম্বাই ক্লাসিকে আফগানিস্তানকে তিন উইকেটে পরাজিত করার ম্যাচে মাত্র ৯৭ রানে সাত উইকেট স্কোর থেকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল তার দলকে রক্ষা করে।

দুই দলের ইনিংস

আফগানিস্থান ইনিংস

আফগানিস্তানের হয়ে এই ম্যাচে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি রেকর্ড করে ইতিহাস তৈরি করেছেন, ইব্রাহিম জাদরান অপরাজিত ১৪৩ বলে ১২৯ রান করেন।

তারা মোট পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২৯১ রান করেন।

 যার মধ্যে রশিদ খানের অপরাজিত ৩৫ এবং রহমত শাহের ৩০ রানের অবদানও রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস

শুরুতেই ট্র্যাভিস হেড দলের মাত্র চার রানের মাথায় নাভিন-উল-হকের বলে শূন্য রানে আউট হয়ে যান।

এরপরে পরপর আজমতুল্লাহ ওমরজাই পরপর বলে ডেভিড ওয়ার্নার এবং জোশ ইঙ্গলিসের উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া দল চাপে পড়ে যায়।

মিচেল স্টার্ক একটি দুর্দান্ত ক্যাচের সৌজন্যে ১৯তম ওভারে আউট হলে অস্ট্রেলিয়া ৯১ রানে সাত উইকেটে হারায়,

যে কারণে এই সময় আফগানিস্তান একটি বিখ্যাত জয়ের কাছাকাছি বলে অনেকেই মনে করেছিলেন।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ইনিংস

চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে শেষ পর্যন্ত গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, চোট নিয়েই যথেষ্ট অস্বস্তি সহ সংগ্রাম করেঅত্যাশ্চর্য প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে এই জয়ের দিকে নিয়ে যান।

ম্যাক্সওয়েল, যিনি তার অবিশ্বাস্য ইনিংস জুড়ে পিঠের খিঁচুনি এবং ক্র্যাম্পে ভুগছিলেন, ১২৮ বলে একটি সত্যিই অসাধারণ ২০১ রান করেছিলেন।

যে ইনিংস তিনি সাজিয়েছিলেন ১০টি ছক্কা এবং ২১ টি চার দিয়ে।

৩৫ বছর বয়সী গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ম্যাচ শেষ করেন এবং নিজের ২০০ পূর্ণ করেন একটি  ছয় দিয়েই।

 শারীরিক সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি পর্যন্ত লড়াই করেছিলেন – আর ১৯টি ডেলিভারি বাকি থাকতেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে ফেলেন।

এর পরেই কামিন্স এই ইনিংসকে বলেন,  যে এটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ওডিআই ইনিংস বলেন। যে কথা অনেক ক্রিকেট বিষেশজ্ঞই এদিন মেনে নিয়েছেন।

কামিন্সের অনবদ্য যোগদান.

১৮.৩ ওভারে রাশিদ খানের বলে মিচেল স্টার্ক ফিরে যাওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন প্যাট কামিন্স।

যেসময় বেশিরভাগ ফ্যানেরাই আফগানিস্থানের জেতা একপ্রকার নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছিলেন।

তবে এই সময় থেকেই পাল্টা প্রতিরোধ শুরু করে কামিন্স ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল জুটি।

সপ্তম উইকেটে এই জুটি ২০২ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলের জয় নিশ্চিত করে।

যারমধ্যে কামিন্স করেন ৬৮ বল খেলে ১২ রান। কামিন্স প্রধানত বল ডিফেন্স করে ম্যাক্সওয়েলকে স্ট্রাইকে রেখেছিলেন।

খুব বেশি রান না করলেও কামিন্স এক প্রান্তে ইনিংসকে সুসংহত করতে সাহায্য করেছিলেন যেকারণেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েল চালিয়েখেলে নিজের দ্বিশত রান পূর্ণ করেন।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল তার ইনিংসে যে রেকর্ড এবং মাইলফলক অর্জন করেছেন

  • গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অসাধারণ ২০১*  রান অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটারের প্রথম ওডিআই ডাবল সেঞ্চুরির, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বিশ্বের ১১তম ডাবল সেঞ্চুরি এটি।
  • ওডিআই রান তাড়া করার ক্ষেত্রে, ম্যাক্সওয়েলের ২০১* বর্তমানে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
  • ম্যাক্সওয়েলের ডাবল সেঞ্চুরিটি এখন ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে চার্লস কভেন্ট্রির করা ১৯৪ রানকে ওডিআই ক্রিকেটের ইতিহাসে অ-ওপেনারের সর্বোচ্চ স্কোর হিসাবে ছাড়িয়ে গেছে।
  • ওডিআই ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ২০১* ডাবল সেঞ্চুরির তৃতীয় উদাহরণ, অন্যদুটি হল ২০১৫ সালে করা ক্রিস গেইলের ২১৫ এবং মার্টিন গাপটিল ২৩৭।
  • গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং অধিনায়ক প্যাট কামিন্স (১২*) এর মধ্যে ২০২ রানের পার্টনারশিপ ওয়ানডেতে অষ্টম বা তার চেয়ে কম উইকেটের জন্য সর্বোচ্চ পার্টনারসিপ।
  • মাত্র ১২৮টি ডেলিভারি খেলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল তার ডাবল-সেঞ্চুরি অর্জন করেন, এটি ওয়ানডেতে দ্বিতীয় দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি করে।
  • এই ম্যাচে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল মোট ১০টি ছয় মেরে এখন তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে ৩৩টি ছয়ের রেকর্ড করেছেন, যা বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানো খেলোয়াড়দের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনালে নিয়ে যায় গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অবিশ্বাস্য ইনিংস

অস্ট্রেলিয়া আফগানিস্তানের আপাতদৃষ্টিতে ২৯১-৫ রান তাড়া করে এবং একসময়  ৯১-৭ হয়ে যায়।

 এরপর আহত হওয়ার পরেও ১২৮ বলে অপরাজিত ২০১ রানের সাহসী ইনিংস খেলেন।গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

যেই ঐতিসাহিক ইনিংসের উপর ভর করে ৩৩ বল বাকি থাকতেই অস্ট্রেলিয়াকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল জয়ের লক্ষমাত্রাতে পৌঁছে দেন।

এই ম্যাচের পরে তৃতীয় স্থান অধিকারী অস্ট্রেলিয়া শনিবার পুনেতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাদের গ্রুপ ম্যাচ শেষ করার আগে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে যোগ দিয়ে শেষ চারে চলে যায়।

এইম্যাচে জিতে অস্ট্রেলিয়া দল ৮ ম্যাচ খেলে ৬টি জিতে ১২ পয়েন্ট অর্জন করে, +০.৮৬১ নেট রানরেটের সাথে সেমিফাইনালে চলে যায়।

অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় স্থানে উঠে সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, আর আফগানিস্তান ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।

অর্থাৎ সেমিফাইনালে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের প্রতিপক্ষ হতে চলেছে দক্ষিন আফ্রিকা, যারাও এই মূহুর্তে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে।

উপসংহার

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এদিনআফগানিস্থানের বিপক্ষে ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলেছিলেন।

 কারণ গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এককভাবেই অস্ট্রেলিয়াকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অত্যাশ্চর্য জয়ে নেতৃত্ব দেন এদিন, এবং তাদের সেমিফাইনালে নিয়ে যান।

৩৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল তাদের ইনিংসের নবম ওভারের ২২ গজের মাঝে চলে যান।

যে সময় সকলে একপ্রকার ধরেই নিয়েছিল আফগানিস্থানের জয় পাওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা।

তবে সকলকে বিস্মৃত করে দিয়ে চোট বিধ্বস্ত গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১২৮ ডেলিভারিতে অপরাজিত ২০১ রান করে অস্ট্রেলিয়া দলের জয় নিশ্চিত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *