ডেভিড ওয়ার্নারে সব ফরম্যাটের টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন

Home » ডেভিড ওয়ার্নারে সব ফরম্যাটের টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন

ডেভিড ওয়ার্নারে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন। এসসিজিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি একটি পাঞ্চি ফিফটি করেছিলেন। তিনি জয়ের মুহুর্তে এটি করতে পারেননি।

ওয়ার্নারের টেস্ট ক্যারিয়ারে ৮৭৮৬ রান, গড় ৪৪.৫৯, স্ট্রাইক রেট ৭০.২৬, ২৬ শতরান এবং ৩৭ অর্ধশতক রয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের টেস্ট রান সংগ্রাহকদের তালিকায় ৫ নম্বরে রয়েছেন।

ওয়ার্নারের বিদায়ের দিনে, এসসিজিতে উপস্থিত ২০,০০০-এরও বেশি দর্শক তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছিলেন।

ডেভিড ওয়ার্নারের বিদায় ম্যাচ

ওয়ার্নারের বিদায় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাট করে ২৭১ রানে অলআউট হয়। ওয়ার্নার ৩৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩৮ রান করে। অস্ট্রেলিয়া লক্ষ্যমাত্রা ১৩০ রানে অনায়াসে অর্জন করে।

ডেভিড ওয়ার্নারের সেরা হিটের মেডলে

ওয়ার্নারের বিদায় ম্যাচে তার পাঞ্চি ফিফটি ছিল তার সেরা হিটের মেডলে। তিনি একটি সুইচ-হিট সুইপ, একটি রিভার্স সুইপ, পিচের নিচে একটি শট এবং কভারের উপর একটি শক্তিশালী থ্র্যাশ খেলেছিলেন।

ডেভিড ওয়ার্নারের বিদায় ম্যাচের আবেগপ্রবণ মুহূর্ত

সিডনি টেস্টে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন ডেভিড ওয়ার্নার।

বিদায় ম্যাচে তিনি ৩১ বলে ৩৬ রান করে আউট হন। তবে, তার বিদায় ম্যাচের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত আবেগপ্রবণ।

পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ওয়ার্নারকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর তিনি মাইকে গিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

ওয়ার্নার বলেন, “আজ যেন মনে হচ্ছে আমার সমস্ত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বিপক্ষ দলকে ৩-০ তে হারানো, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা। সব কিছু স্বপ্নের মতো লাগছে। এই দলের হয়ে খেলতে পেরে আমি গর্বিত।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এই দলের জন্য অনেক কিছু করতে চেয়েছিলাম। আমি মনে করি আমি তা করতে পেরেছি। আমি এই দলের জন্য সর্বোচ্চটা দিয়েছি।”

তার কথা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ভক্তরা। তারা তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান।

ওয়ার্নারের বিদায় ম্যাচটি ছিল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য একটি বিশেষ দিন। একজন কিংবদন্তীর ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল এই দিন।

তার অবসর নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলকে তার জায়গা পূরণ করতে হবে। তবে, ওয়ার্নারের উত্তরাধিকার অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে রয়ে যাবে।

ডেভিড ওয়ার্নারের পরিচিতি

ডেভিড ওয়ার্নার ১৯৮৬ সালের ২৭ অক্টোবর নিউ সাউথ ওয়েলসের প্যাডিংটনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলায় আগ্রহী ছিলেন।

তিনি স্থানীয় ক্রিকেট ক্লাবগুলোতে খেলতেন এবং তার প্রতিভা খুব দ্রুতই সকলের নজরে পড়ে।ডেভিড ওয়ার্নার হলেন একজন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার।

তিনি বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত। তার দ্রুত রান সংগ্রহের ক্ষমতা তাকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিণত করেছে।

ডেভিড ওয়ার্নারে র টেস্ট ক্রিকেটে অবদান

ডেভিড ওয়ার্নার একজন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার যিনি তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত।

তিনি টেস্ট, একদিনের আন্তর্জাতিক (ODI) এবং টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক (T20I) ম্যাচ খেলেছেন।

ওয়ার্নার তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুতেই সফল হন। তিনি ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক করেন এবং তার প্রথম টেস্ট সিরিজেই ১৮৯ রান করেন।

তিনি ২০১৪ সালে ODI ক্রিকেটেও অভিষেক করেন এবং তার প্রথম ODI সিরিজেই ১১০ রান করেন।

ডেভিড ওয়ার্নারে র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের উত্থান

ওয়ার্নারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের উত্থান অব্যাহত থাকে। তিনি ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে জয় এনে দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিশ্বকাপে ১০০০ রান সংগ্রহকারী প্রথম অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড় হন।

ওয়ার্নার ২০১৭ সালেও সফল ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালের অ্যালান বর্ডার মেডেল জিতেছেন, যা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সেরা খেলোয়াড়ের জন্য দেওয়া হয়।

তিনি ২০১৭ সালের ODI সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ডেভিড ওয়ার্নারে র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পতন

ডেভিড ওয়ার্নারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পতন ২০১৮ সালে শুরু হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাদের টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ান দলের দ্বারা বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠলে ওয়ার্নারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

পরে তাকে এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।

ওয়ার্নারের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর তিনি আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসেন।

তিনি ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে ফাইনালে পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ডেভিড ওয়ার্নার ২০২১ সালের T20 বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে জয় এনে দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেন। তিনি একই মাসে ওডিআই ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।

ডেভিড ওয়ার্নারে র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সাফল্য ও ব্যর্থতা

ডেভিড ওয়ার্নারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে।

তিনি তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত, কিন্তু তিনি কিছু বিতর্কিত ঘটনার সাথেও জড়িত ছিলেন।

তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে জয় এনে দেওয়া।

ডেভিড ওয়ার্নার বিশ্বকাপে ১০০০ রান সংগ্রহকারী প্রথম অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড় হন।

তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হল ২০১৮ সালের বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি।

এই কেলেঙ্কারিতে ওয়ার্নারের ভূমিকা ছিল এবং তাকে এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।

ডেভিড ওয়ার্নারের অবসর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তিনি একজন দক্ষ এবং বিনোদনমূলক ব্যাটসম্যান ছিলেন যিনি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলকে অনেক বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে, ওয়ার্নার একজন সফল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। তিনি অস্ট্রেলিয়াকে অনেক সাফল্য এনে দিয়েছেন। তবে, তার ক্যারিয়ারে কিছু বিতর্কিত ঘটনাও ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *