ফ্লপ দল গুলোর তালিকা চলমান আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপে

Home » ফ্লপ দল গুলোর তালিকা চলমান আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপে

আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপে ফ্লপ দল গুলোর তালিকা নিয়ে থাকছে আজকের এই নিবন্ধ।

আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৩ টুর্নামেন্টের তেরতম মৌসুমের খেলা চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের পঁচিশটি ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেকাংশের খেলা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বিশ্বকাপে দশটি দল ইতিমধ্যে খেলেছে পাঁচটি করে ম্যাচ। যেখানে জয়ের সমীকরণ বলে দিচ্ছে কোন চারটি দল সেমিফাইনালের লড়াইতে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে কিছু ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গিয়েছে। শক্তিশালী কয়েকটি দল বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ফ্লপ করে আসছে। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ইংল্যান্ডের নাম। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০২৩ টুর্নামেন্টে ফ্লপ করা কয়েকটি দলেআইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপের ২০২৩ প্রেক্ষাপটে ফ্লপ দল গুলোর সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপের ২০২৩ প্রেক্ষাপটে ফ্লপ দল গুলো

আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৩ টুর্নামেন্টে বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত ঘটনা লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে নিজে ওডিআই বিশ্বকাপে  চারটি ফ্লপ দল সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

যাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন অনেকটাই শেষ বলে ধরে নেওয়া যায়। অর্থাৎ বিশ্বকাপের এই মৌসুমে দলগুলো ফ্লপ করেছে।

১. ইংল্যান্ড

আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৩ টুর্নামেন্টে ফ্লপ দল গুলোর তালিকায় সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের আসরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এমন পারফরম্যান্স মোটেও কাম্য ছিল না। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অনেকটাই শেষ বলে ধরে নেওয়া যায়।

বিশ্বকাপে সর্বমোট ইংল্যান্ড সর্বমোট পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে, যেখানে তারা কেবল একটি ম্যাচে জয় পেয়েছে।

সবশেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লজ্জাজনক হার বরণ করে নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে।

কেবল একটি ম্যাচ জিতে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠার জন্য দলগুলোকে কমপক্ষে ৬টি করে ম্যাচ জিততে হয়।

এছাড়াও নেট রানরেটের হিসেব করতে হয় দলগুলোকে।

এক্ষেত্রে বাকি চারটি ম্যাচে জিতলেও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল খেলার সমীকরণ অনেকটাই অবাস্তব।

ক্রিকেটের অন্যতম দাপুটে দলটার এমন অবস্থা রীতিমত অবাক করেছে সবাইকে।

বেশিরভাগ খেলোয়াড়দের চোট এই সমস্যার অন্যতম কারণ বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

তবে খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতার অভাবে ইংল্যান্ড চলমান বিশ্বকাপে ফ্লপ করেছে।

২. নেদারল্যান্ডস

বাছাইপর্ব থেকে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত দাপুটে দলকে পিছে ফেলে দিয়েছিল তারা। বিশ্বকাপে তুলনামূলক কম শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডস।

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে শক্তিশালী সাউথ আফ্রিকাকে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে নেদারল্যান্ডস।

তবে বিশ্বকাপে খেলা পাঁচটি ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের জয় কেবল একটি ম্যাচে।

এছাড়াও নেট রান রেটের সমীকরণে বিশাল ব্যবধানে পয়েন্ট তালিকার সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস।

অর্থাৎ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে নেদারল্যান্ডস।

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে সাউথ আফ্রিকার মত দাপুটে দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় কিছুটা হলেও স্বস্তি দিবে দলটিকে।

৩. বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের পূর্বে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ছিল বড়কিছু করার।

কিন্তু বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো হলেও পরপর চারটি ম্যাচে বাজেভাবে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

মূলত অব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশকে এত বড় ফ্লপের শিকার হতে হয়েছে।

বিশ্বকাপের পূর্বে তামিম ইকবালের হঠাৎ ইঞ্জুরি এবং দলের ব্যাটসম্যানদের ক্রমাগত ব্যর্থতা বাংলাদেশের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট যথেষ্ট শক্তিশালী কেননা বাংলাদেশের বিশ্বমানের পেসার রয়েছে। কিন্তু ব্যাটিং দুর্বলতার কারণে বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। এছাড়াও বাংলাদেশের এমন ক্রমাগত হারের পিছনে সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্ব এবং হাথুরু সিংহের কোচিং দর্শনের উপর প্রশ্ন তুলছে বাংলাদেশি ভক্তরা।

৪. আফগানিস্থান

আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৩ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে হার দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয় আফগানিস্থান দলের।

বিশ্বকাপে সর্বমোট পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে আফগানিস্থান এবং তাদের জয় রয়েছে কেবল দুটি ম্যাচে।

বিশ্বকাপে আফগানিস্তান বড় চমক দেখিয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে। সেমিফাইনালে আফগানিস্থানের উঠার সমীকরণ অনেকটাই অবাস্তব। কারণ পয়েন্ট তালিকার আফগানিস্তানের অবস্থান সপ্তম। আর তাই আফগানিস্থানের সেমিফাইনাল খেলতে হলে বাকি চারটি ম্যাচের সব কটি জেতার পাশাপাশি চোখ রাখতে হবে নেট রানরেট সমীকরণের দিকে।

দলে দুর্দান্ত স্পিনার এবং ব্যাটসম্যান থাকলেও বিশ্বকাপে ফ্লপ করেছে আফগানিস্থান।

ফ্লপ দল গুলোর অতীত পারফরম্যান্স এবং প্রত্যাশার সাথে তুলনা

বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চে প্রতিযোগিতায় নামার পূর্বে প্রত্যেকটি দল তাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে ভারতের মাটিতে পা রেখে গেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে কয়েকটি দল তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে সক্ষম হল কিছু দল ফ্লপ করেছে। ফলশ্রুতিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লড়াই থেকে দলগুলো অনেকটাই ছিটকে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে ইংল্যান্ডের কথা বলা যেতে পারে। অতীত পারফরম্যান্স এবং প্রত্যাশার সাথে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ পারফরমেন্সের অনেকটাই তফাৎ লক্ষ্য করা যায়।

এছাড়াও দ্বিতীয় উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ এর নাম বলা যেতে পারে।

বিশ্বকাপের পূর্বে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি অনেকটাই ভালো ছিল। বাংলাদেশের ছিল বিশ্বমানের পেস বোলিং ইউনিট।

কিন্তু বিশ্বকাপের শুরুটা দুর্দান্ত হলো বাকি ম্যাচগুলো ক্রমাগত হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

অতীতে বাংলাদেশের অসংখ্য দুর্দান্ত পারফরম্যান্স লক্ষ্য করা গেলেও বিশ্বকাপে মঞ্চে প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির তফাৎটা অনেক বেশি।

চলমান আইসিসি বিশ্বকাপে এমনটাই দেখা যাচ্ছে এবার। দলগুলোর অতীত পারফরম্যান্স এবং প্রত্যাশার তুলনায় তাদের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের বিশেষ পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। তবে ভারত, সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রেখেছে বিশ্বকাপে।

দলের ভবিষ্যত এবং সমাপনী মন্তব্যের উপর প্রভাব

বিশ্বকাপের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিযোগিতা থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছে কয়েকটি দল। দলগুলোর মধ্যে নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ, আফগানিস্থান অন্যতম। বিশ্বকাপে তাদের সেমিফাইনালে উঠার সমীকরণ অনেকটাই অবাস্তব।

বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে পূর্বে প্রতিটি দলের লক্ষ্য থাকে শিরোপা জয় করে ঘরে ফেরার। তবে প্রতিটি দলের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়না।

তবে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অবশ্যই পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কেন্দ্র করে তৈরি হবে।

বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে না পারলেও দলগুলোর পরিকল্পনা থাকা উচিত পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয় ছিনিয়ে নেওয়া।

যেটি তাদের প্রতিযোগিতায় লড়াই করার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

উপসংহার

আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৩ মৌসুমের খেলা প্রায় অন্তিম মুহূর্তে।

তবে এখন থেকেই আঁচ করা যাচ্ছে কোন দলগুলো বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইতে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপে ভারত, নিউজিল্যান্ড এবং সাউথ আফ্রিকার সেমিফাইনাল সমীকরণ অনেকটাই সহজ হলেও অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্থান এই তিন দলের জটিল সমীকরণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আপনার ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী কোন চারটি দল সেমিফাইনাল খেলবে সেটি আমাদের মন্তব্য করে জানিয়ে দিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *