বাংলাদেশের সেরা আট শক্তিশালী – নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়ের পর

Home » বাংলাদেশের সেরা আট শক্তিশালী – নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়ের পর

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়ের পর বাংলাদেশের সেরা আট পর্বে যাওয়ার সমীকরণ অনেকটাই সহজ হয়ে উঠেছে। শেষ ম্যাচে নেপালকে হারাতে পারলেই নির্দ্বিধায় টাইগাররা উঠবে পরের রাউন্ডে। তবে নেপালের বিপক্ষে কোনভাবে হেরে গেলে তাকিয়ে থাকতে হবে নেদারল্যান্ডস বনাম শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচের দিকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে গত ১৩ জুন বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছিল নেদারল্যান্ডস এর বিপক্ষে। বিশ্বকাপে সুপার আট পর্বে উঠার সমীকরণ সহজ করতে হলে বাংলাদেশকে উক্ত ম্যাচে জয় পেতেই হতো। গত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে শেষ ওভারের নাটকীয় হার বরণ করে নিতে হয় টাইগারদের। মাহমুদুল্লাহ এর চোখ ধাঁধানো শট অনেকে ভেবেছিল বাউন্ডারির ওপারে গিয়েছিল, তবে শেষে দেখা যায় মাহমুদুল্লাহ এর সেই শট পড়েছে ফিল্ডারের হাতে। ফলশ্রুতিতে, ম্যাচের অনেকটা কাছাকাছি গিয়েও জয় পেল না টাইগাররা। বাংলাদেশ তাদের শেষ ম্যাচ খেলবে নেপালের বিপক্ষে ১৭ জুন তারিখে।

বাংলাদেশ বনাম নেদারল্যান্ডস: ম্যাচ রিভিউ

বাংলাদেশ বনাম নেদারল্যান্ডসের ম্যাচে শুরুতে টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ডাচরা।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ের স্বীকার হয়েছিল টাইগার ব্যাটাররা। নাজমুল হোসেন শান্ত এবং লিটন দাসের দ্রুত উইকেট পতনের পর তানজিদ তামিম এবং সাকিব রানের সংখ্যা বৃদ্ধির কাজে লেগে পড়ে। পাওয়ার প্লেতে ভালো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। অষ্টম ওভারে ফিরতে হয় তামিমকে। তাওহীদ হৃদয় এদিন জ্বলে উঠতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ৪৬ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস এবং মাহমুদুল্লাহ এর ২১ বলে ২৫ রানের ইনিংসের কল্যাণে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান জমা করে সাকিবরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে প্রায় ১৫ ওভার পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলেছে ডাচরা।

বিক্রমজিৎ সিং এবং এঙ্গেলব্রেখট এর ব্যাটিং তাণ্ডব দেখে এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ম্যাচ বাংলাদেশের হাতের বাইরে চলে গিয়েছে।

তবে মাহমুদুল্লাহ বিক্রমকে এবং রিশাদ এঙ্গেলব্রেখটকে আউট করলে ম্যাচ ঘুরে যায় বাংলাদেশের দিকে।

এরপর তাসকিন, মুস্তাফিজদের কৃপণ বোলিং এর দৌলতে ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানে গিয়ে থামে ডাচরা।

ফলে বাংলাদেশ জয় পায় ২৫ রানের ব্যবধানে।

মূল খেলোয়াড় এবং পারফরম্যান্স

শেষ ম্যাচে নেপাল কিংবা সুপার আট পর্বের জন্য বাংলাদেশের মূল নজরে থাকার মতো প্লেয়ার কারা? কাদের উপর বাংলাদেশের ম্যাচ জয় অনেকটা নির্ভর করছে, সেটি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

১. তৌহিদ হৃদয়

যেকোন জটিল পরিস্থিতিতে কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় সেটা সবচেয়ে ভালো জানেন তৌহিদ হৃদয়। অসংখ্য জটিল পরিস্থিতিতে ম্যাচ বের করে এনেছেন তরুণ এই ক্রিকেটার।

চোখ ধাঁধানো সব শট খেলে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন এই ব্যাটসম্যান। সেরা আট পর্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হৃদয়।

২. মুস্তাফিজুর রহমান

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ দলের একজন নির্ভরযোগ্য পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলের পর দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। গুরুত্বপূর্ণ সময় দুর্দান্ত ব্রেক থ্রু এনে দিচ্ছেন দলকে।

তাই সেরা আট পর্বে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় তিনি।

৩. তাসকিন আহমেদ

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহ অধিনায়ক এবং নির্ভরযোগ্য একজন পেসার তাসকিন।

দলের প্রয়োজন অনুযায়ী বল করে থাকেন তাসকিন। অভিজ্ঞ এই পেসার যেকোন সময় প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেন। পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় তিনি।

৪. মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ

বাংলাদেশ দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ। তিনি কেবল ব্যাট হাতেই নন, বরং বল হাতেও দলের প্রয়োজনে লড়াই করে থাকেন। গত ম্যাচে ব্যাট এবং বল উভয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন রিয়াদ।

পরবর্তী ম্যাচগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় তিনি। মাহমুদউল্লাহকে দলের ফিনিশার হিসেবেও বলা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের সেরা আট – কৌশলগত অন্তর্দৃষ্টি

বাংলাদেশ দলে ব্যাটিং লাইনআপ এর তুলনায় বোলিং পর্যায়ে ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়। বোলিং ইউনিটে তাসকিন, মুস্তাফিজ, সাকিব, মাহমুদুল্লাহ, রিশাদ এবং জুনিয়র সাকিবরা দুর্দান্ত করছেন। তবে ব্যাটিং পর্যায়ে হতাশ করছে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা।

একটি দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। সেখানে ব্যর্থ লিটন, শান্তরা।

এক্ষেত্রে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয় পেতে হলে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ফর্মে থাকা অত্যন্ত জরুরী।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জয়ের কৌশল ব্যাটিং অর্ডারকে কেন্দ্র করেই প্রবর্তিত।

যদিও মিডল অর্ডার এইক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ম্যাচ জয়ের পেছনে মিডল অর্ডারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের সেরা আট পর্যায়ের জন্য জটিলতা

বাংলাদেশের সেরা আট এর সমীকরণ অনেকটাই সহজ। নেপালের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে পারলেই সেরা আট নিশ্চিত বাংলাদেশের। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে পরবর্তী রাউন্ডে।

বাংলাদেশ যদি পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছে যায়, এক্ষেত্রে তাদের প্রথম ম্যাচ হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ঠিক পরই বাংলাদেশকে মুখোমুখি হতে হবে ভারতের।

তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হতে হবে।

বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বে বাংলাদেশের জন্য দুটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অবশ্যই দুর্দান্ত ফর্মে থেকে ম্যাচে পারফর্ম করতে হবে।

তবে দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান লিটন এবং শান্ত এর ফর্মে না থাকা অনেকটাই হতাশ করবে বাংলাদেশকে।

টপ অর্ডার বাংলাদেশের জন্য একটি বড় জটিলতা।

বাংলাদেশের সেরা আট এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

২০০৭ সালের পর বিশ্বকাপ আসরে জয়ের দেখা পেতে বাংলাদেশের লেগেছিল প্রায় ১৫ বছর। ১৫ বছর পর গত বিশ্বকাপে সেরা ১২ পর্বে প্রথম ম্যাচে ডাচদের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ।

পরবর্তী ম্যাচে জিম্বাবুয়েকেও হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ।

যেটিকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সামনের পর্যালোচনা

বাংলাদেশের আসন্ন প্রতিযোগিতার দিকেই ক্রিকেট অনুরাগীদের সবচেয়ে বড় নজর।

এক্ষেত্রে গ্রুপ পর্বে কেবল একটি খেলার উপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের সুপার আট পর্বের খেলা। সুপার আট পর্বে অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং আফগানিস্থানের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ।

জয় পেলেই টিকেট মিলবে সেমিফাইনালের। এখন কেবল দেখার পালা।

উপসংহার

আজকের নিবন্ধে আমরা আলোচনা করেছি বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার ম্যাচ নিয়ে।

এছাড়াও বাংলাদেশের পরবর্তী রাউন্ডের আসন্ন প্রতিকূলতা নিয়েও আলোচনা করেছি বিস্তারিত।

আপনার মতামত অনুযায়ী আসন্ন ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জটিলতা কি সেটি আমাদের জানিয়ে দিতে ভুলবেন না। বিশ্বকাপের সকল আপডেট পেতে সাথেও থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *