বাবর আজম পাকিস্তানের অধিনায়কের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন

Home » বাবর আজম পাকিস্তানের অধিনায়কের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন

পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক বাবর আজম বুধবার সকালে এক বিবৃতিতে সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বুধবার  বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আজ, আমি সব ফরম্যাটে পাকিস্তানের অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।

এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত কিন্তু আমি মনে করি এটিই সঠিক সময়। আমি তিন ফরম্যাটেই একজন খেলোয়াড় হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব চালিয়ে যাব।”

তিনি আরো বলেন, “আমার অভিজ্ঞতা এবং ত্যাগ স্বীকার করে নতুন অধিনায়ক এবং দলকে সমর্থন করে যাব।”

পাকিস্তান ক্রিকেটে বাবর আজমের অধিনায়কত্ত্বের যাত্রা

পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সফল অধিনায়ক বাবর আজম। তিনি বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকালে সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বাবর আজম একজন প্রতিভাবান অধিনায়ক এবং ব্যাটসম্যান। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পান বাবর।

বাবরের নেতৃত্বে পাকিস্তান ক্রিকেট অনেক উন্নতি করেছে। তিনি ২০১৯ সালে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নিয়ে যান।

২০২১ সালে পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে নিয়ে যান। ২০২২ সালে পাকিস্তানকে ওয়ানডে বিশ্বকাপে সুপার ১২-এ নিয়ে যান।

বাবর আজম একজন প্রতিভাবান অধিনায়ক এবং ব্যাটসম্যান। তিনি আইসিসির ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান ক্রিকেট একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

পদত্যাগের কারণ

বাবর আজমের পদত্যাগের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তার মধ্যে প্রধান হলো ২০২৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ব্যর্থতা।

বিশ্বকাপের শুরুতে পাকিস্তান বেশ ভালোভাবে খেলেছিল। প্রথম দুটি ম্যাচে তারা জয়লাভ করে। কিন্তু ভারতের কাছে হেরে যাওয়ার পর পাকিস্তানের দল ছন্দ হারিয়ে ফেলে।

এরপর তারা টানা চারটি ম্যাচে হেরে যায়। পরে তারা বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলে জয়লাভ করে।

কিন্তু নেট রান রেটের দিক দিয়ে নিউজিল্যান্ডের থেকে তারা পিছিয়ে ছিল। শেষমেশ ইংল্যান্ডের কাছে তারা হেরে যায়। তার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল আর উঠতে পারেনি।

বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে মাত্র ৪টিতে জয় পেয়ে পাকিস্তান পঞ্চম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে। ৯ ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩২০ রান করেন বাবর আজম। 

বিশ্বকাপ চলাকালীন তিনি নয়টি ম্যাচে ৩২০ রান করেছিলেন যা পাকিস্তানের জন্য তৃতীয় সর্বোচ্চ – ৪০ গড়ে এবং ৮২.৯০ স্ট্রাইক রেট।

বিশ্বকাপে তার এই ব্যর্থতার জন্য তিনি অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “আমি আজ পাকিস্তানের সব ফরম্যাটের অধিনায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করছি। এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু আমি মনে করি এটাই সঠিক সময়।

আমি পাকিস্তানের হয়ে একজন খেলোয়াড় হিসেবে খেলা চালিয়ে যাব এবং নতুন অধিনায়ক এবং দলকে আমার অভিজ্ঞতা এবং নিষ্ঠার সাথে সমর্থন করব।

আমি আশা করি পাকিস্তান ক্রিকেট ভবিষ্যতেও সফল হবে।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমাকে দেওয়ার জন্য।”

 পদত্যাগের পরও দলের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বর্তমান অধিনায়ক বাবর আজম সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

পিসিবি আরও নিশ্চিত করেছে যে বাবর যখন চেয়ারম্যান আশরাফের সাথে দেখা করেছিলেন।

তখন তাকে শুধুমাত্র সাদা বলের ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে টেস্ট ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।

এবং এই প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

বাবর আজম স্পষ্ট করেছেন যে তিনি নতুন অধিনায়ককে সম্ভাব্য সব উপায়ে সমর্থন করবেন।

তিনি বলেছেন, “আমি তিন ফরম্যাটেই একজন খেলোয়াড় হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে থাকব।

আমি এখানে আমার অভিজ্ঞতা এবং নিষ্ঠার সাথে নতুন অধিনায়ক এবং দলকে সমর্থন করতে এসেছি।

এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করার জন্য আমি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই।”

বাবর আজমের ইস্তফা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জন্য একটি বড় পরিবর্তন। তিনি একজন প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান এবং একজন দক্ষ অধিনায়ক।

তার নেতৃত্বে, পাকিস্তান ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি শক্তিশালী দল হয়ে উঠেছে।

আশরাফের সমালোচনা এবং বাবরের পিসিবির ব্যাক না থাকা

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সভাপতি জাকা আশরাফ টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি একটি বিবৃতি জারি করেছিলেন যখন বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত স্কোয়াডটি তৎকালীন চেয়ারম্যান ইনজামাম উল হক এবং অধিনায়ক বাবরের নির্দেশে করা হয়েছিল।

এই বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে টুর্নামেন্টের শেষে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই বিবৃতির ফলে আশরাফের উপর অনেক সমালোচনা ঝরে পড়ে।

সমালোচকরা বলছিলেন যে আশরাফ বোর্ডের প্রধান হিসেবে দলের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

তারা আরও বলছিলেন যে এই বিবৃতিতে বোঝা যায় যে বাবরের পিসিবির ব্যাক নেই।

বাবর আজম নিজেও এই বিবৃতির সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে তিনি বোর্ডের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চান, কিন্তু তিনি তার অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত নিতে বোর্ডের উপর নির্ভর করতে চান না।

পদত্যাগের প্রভাব

বাবর আজমের পদত্যাগ পাকিস্তান ক্রিকেট দলের উপর বেশ কয়েকটি প্রভাব ফেলতে পারে।

দলের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা:

বাবর আজম ছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের একজন অপ্রতিরোধ্য নেতা। তার ইস্তফার ফলে দলের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নতুন অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়, কিন্তু তার নেতৃত্বের ক্ষমতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

দলের পারফরম্যান্সের উপর প্রভাব:

বাবর আজমের নেতৃত্বে, পাকিস্তান ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি শক্তিশালী দল হয়ে উঠেছে।

তার ইস্তফার ফলে দলের পারফরম্যান্সের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *