ভারতীয় দল এর আধিপত্য এশিয়াম গেইমস ক্রিকেটে : পুরুষ ও মহিলাদের উভয়ই স্বর্ণপদক

Home » ভারতীয় দল এর আধিপত্য এশিয়াম গেইমস ক্রিকেটে : পুরুষ ও মহিলাদের উভয়ই স্বর্ণপদক

আজকের পোস্টে আমরা এশিয়ান গেইমস ক্রিকেটে ভারতীয় দল এর আধিপত্য নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি। ক্রিকেট সম্রাজ্যে ভারতীয় দল এর বিজয়ের পথ, মেন্স ক্রিকেটে তাদের আধিপত্য, নারী দলের বিজয়, কোচের প্রভাব ইত্যাদি সকল বিষয় নিয়ে আজকের পোস্টে আলোচনা করা হবে। তো আর দেরি না করে চলুন শুরু করা যাক।

এশিয়ান গেইমস ক্রিকেটে বিজয়ের পথ: এশিয়ান গেইমসে এবার ভারতের উভয় নারী দল এবং পুরুষ দল অনেক ভালো খেলেছে। তারা উভয়ই এশিয়ান গেইমস ক্রিকেটে গোল্ড মেডেল পেয়েছে। তো জেনে নেওয়া যাক তাদের গোল্ড মেডেল জেতার জয়ের যাত্রা।

পুরুষ দল

এশিয়ান গেইমস ক্রিকেটে ভারতের যাত্রা শুরু জয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। তাদের গ্রুপ স্টেজের কোনো ম্যাচ খেলতে হয়নি। কোয়ার্টার ফাইনলে ভারত পুরুষ দল নেপালের মুখোমুখি হয়৷ এবং খুবই সহজেই ভারত নেপালকে হারিয়ে দেয়। ভারত ২৩ রানে ওই ম্যাচে জয় লাভ করে।

এরপর সেমিফাইনালে ভারতের ম্যাচ পরে বাংলাদেশের সাথে। ওই ম্যাচেও ভারত অনেকটাই সহজে জিতে যায়।

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের ফলে ভারতের কাছে ম্যাচ জেতা হয়ে যায় একদম সহজ।

বাংলাদেশের ২০ ওভার খেলে ৯ উইকেটের পতনে মাত্র ৯৬ রান করতে পারে।

এর বিপরীতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত ৯ উইকেট হাতে রেখে ৯ ওভারের মধ্যে ৯৭ করে ফেলে।

অপর সেমিফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তান আফগানিস্তানের কাছে ৪ উইকেটে হারে।

এবং ফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত ও আফগানিস্তান। আফগানিস্তান ১৮ ওভার ২ বল শেষে ৫ উইকেট হাতে রেখে ১১২ রান করে।

এরপর বৃষ্টি আরম্ভ হয়। এবং খেলার কোনো অবস্থা না থাকায় খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা কর হয়।

এরপর র‍্যাঙ্কিং এর উওঅঅর ভিত্তি করে গোল্ড মেডেল জয়ী নির্ধারণ করা হয়।

আর যেহেতু ভারত আফগানিস্তানের চেয়ে র‍্যাঙ্কিং এ এগিয়ে আসে সেহেতু ভারতকে দেওয়া হয় গোল্ড মেডেল।

নারী দল

ভারত পুরুষ দলের মতো ভারত নারী দলেরও ওয়ার্ল্ডকাপ মিশন শুরু হয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতীয় নারী দলের প্রতিপক্ষ হয় মালয়েশিয়া নারী দল। ওই ম্যাচে ভারতীয় নারী দল ১৫ ওভারে দুই উইকেটের পতনে ১৭৩ করে এবনগ বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারণে ডিএলএস মেথডের মাধ্যমে টার্গেট দেওয়া হয় ১৭৭ রান। কিন্তু মালয়েশিয়া নারী দল দুই বল খেলার পরই বৃষ্টির জন্য ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায় এরপর র‍্যাঙ্কিং এর ভিত্তিতে ভারত নারী দল সেমিফাইনালে উঠে যায়।

সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ।

পুরুষ দলের মতো বাংলাদেশ নারী দলের ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে। মাত্র ৫১ রানে অল আইট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

জবাবে ভারত ৮ উইকেট হাতে রেখে ৮ ওভারের মধ্যে খেলা শেষ করে।

ভারতের মেন্স ক্রিকেটে আধিপত্য

ভারত যে শুধু এশিয়ান গেইমসে একটা গোল্ড মেডেল জিতেছে তা কিন্তু নয়, অনেক আগে থেকেই ভারত ক্রিকেট ডমিনেট করে আসছে।ওয়ার্ল্ডকাপ, এশিয়া কাপ সব জায়গাতেই তাদের প্রভাব।

ভারত এখন পর্যন্ত ৮ বার এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ভারত মোট দুইবার ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

যেকোনো টুর্নামেন্টেই ভারত ফ্যান ফেভারিট থাকে।

কয়েক মাস আগের এশিয়া কাপও ভারত জিতেছে। বর্তমানেও তাদের পারফরম্যান্স অনেক ভালো।

ওয়ান ডে ওয়ার্ল্ডকাপ যদি নাও জিতে তবুও অনেক দূর যাবে ভারত।

এশিয়ান গেইমসে ভারতীয় দল এর নারীদের জয়

সেমিফাইনালে ভারত বাংলাদেশকে হারানোর পর ফাইনালে চলে যায়। অপর দিকে পাকিস্তান নারী দলকে ২১ বল হারে রেখে ৬ উইকেটে হারিয়ে শ্রীলঙ্কা নারী দল ফাইনালে চলে যায়। ফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হয়।

ভারত নারী দল টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ভারতের মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৬ রান।

ওপেনার ব্যাটার স্মৃতি মানধানা ৪৫ বলে ৪৬ রান করেন এবং মিডল অর্ডার ব্যাটার জেমিমা রদ্রিগেজ ৪০ বলে ৪২ রান করেন।

এছাড়া কেউই তেমন রান করতে পারেননি। এই দুইজন ব্যতীত একজন ব্যাটারও দুই অঙ্কের রান পৌঁছুতে ব্যর্থ হয়।

এর জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কা নারী দলও তেমন কিছুই করতে পারেনি। শ্রীলঙ্কা নারী দলের টপ অর্ডার কিছুই করতে পারেনি।

মিডল অর্ডার খেলা ধরে রাখার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। সর্বোচ্চ রান করেছেন হাসিনি পারেরা।

তিনি ২২ বলে ২৫ রান করেছেন। শ্রীলঙ্কার শেষে রান দাঁড়ায় ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৯৭ রান।

মোট ১০ জন ব্যাটার যারা মাঠে এসেছে তাদের মধ্যে ছয়জন দুইয়ের অঙ্কে রান করতে পারেনি।

ভারত ১৯ রানে জয় লাভ করে। তিতাস সাধু ৪ ওভার বল করে ৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নিয়েছেন।

ভারতীয় দল এর স্টার প্লেয়াররা

এশিয়ান গেইমস বা এ ধরণের টুর্নামেন্টে অনেকক্ষেত্রেই মূল দলের প্লেয়ারদের কম নামানো হয় তার উপর দিয়ে এখন মেন্স ওয়ার্ল্ড কাপ চলছে।

কিন্তু তারপরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টার প্লেয়ার উভয়ই নারী ও পুরুষ দলে বিদ্যমান। বেশ কিছু ইয়াংস্টারও রয়েছে দলে।

ভারত পুরুষ দল: রুতুরাজ গাইকওয়াদ, তিলক ভর্মা, রিংকু সিং, শিভাম ডুবে, ওয়াশিংটন সুন্দর, রাভি বিশনোই, আরশদিপ সিং।

ভারত নারী দল: হারমানপ্রিত কর, জেমিমা রদ্রিগেজ, স্মৃতি মানধানা, রিচা ঘোষ, পূজা ভাস্ত্রাকার, রাজেশ্বরী গায়েকওয়াদ।

ভারতীয় দল এর আধিপত্যর পিছনে কোচের প্রভাব

কোচকে একটি খেলার মাথা বলা হয়। একজন কোচই তার প্লেয়ারদেরকে সবকিছু শিখায়। সব ধরণের কৌশল, কিভাবে কি কোন জায়গায় করতে হবে এসকল বিষয় কোচ শিখায়। তো একটা টিমের ভালো কিছু করা বা না করা অনেকটাই একজন কোচ এবনহ তার বুদ্ধির উপর নির্ভর করে৷ এশিয়ান গেইমস বা অন্য যেকোনো ম্যাচেই কোচের প্রভাব অনেক।

ভক্ত এবং দেশের প্রতিক্রিয়া

স্বাভাবিকভাবেই ভারতে সারা দেশ এবং সারা দেশের সব জনগণ এশিয়ান গেইমস ক্রিকেটে একসঙ্গে দুইটি গোল্ড মেডেল জেতা নিয়ে খুশি আছে।

এটা একটা বড় সাফল্যতা দুই দলের জন্যই। তাই অবশ্যই ফ্যানরা অনেক খুশি হয়েছে।

এরকম একবারও হয়নি যে একটি এশিয়ান গেইমসে ক্রিকেটে নারী ও পুরুষ উভয়ক্ষেত্রেই কোনো একটি দেশ গোল্ড মেডেল জিতেছে।

উপসংহার

ভারতের দুইটি স্বর্ণ জয় অনেক ভালো একটি বিষয়। এতে করে নারী খেলোয়াড়দের মধ্যে অনুপ্রেরণা আরও বৃদ্ধি পাবে।

আর পুরুষ দলও এ দ্বারা অণুপ্রাণিত হবে এবং বিশ্বকাপে তাদের সম্পূর্ণ দিবে। এর মাধ্যমে প্লেয়াররা নিজেদের যোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা পাবে এবং তাদের চেষ্টা শক্তি এবং ইচ্ছা শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *