ভারত বনাম পাকিস্তান কোন ক্রিকেটীয় দ্বৈরথ নির্ধারণ করবে ম্যাচের ভাগ্য?

Home » ভারত বনাম পাকিস্তান কোন ক্রিকেটীয় দ্বৈরথ নির্ধারণ করবে ম্যাচের ভাগ্য?

আগামী শনিবার ২রা সেপ্টেম্বর পালিক্কাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত বনাম পাকিস্তান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে।

এশিয়া কাপ ২০২৩-এ এটাই ভারতের প্রথম ম্যাচ। ভারত পাকিস্তান শেষ মখোমুখি হয়েছিল গতবছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে।

গোটা ক্রিকেট বিশ্বের কাছেই ভীষণ আলোচিত বিষয় হচ্ছে ভারত পাকিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

সিরিজ বন্ধ হওয়ার জন্য ওডিআই ফরম্যাটে প্রায় চার বছর পর ভারত বনাম পাকিস্তান দেখতে চলেছে দুনিয়া।

আইসিসির রাঙ্কিংএ পাকিস্তান আছে শীর্ষে, ভারত তিনে। দুই টিমই শক্তিধর, বাইশ গজে লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হবে, এ নিয়ে সন্দেহ নেই।

কে নির্ধারণ করবে ম্যাচের ভাগ্য ?

ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের ফলাফল  টিমের চেয়ে বেশি নির্ভর করছে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের ওপর। সমর্থকরা ও উৎসুক এই লড়াইয়ের জন্য।

ভারতের কোন ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের কোন বোলার কেমন আক্রমণ শানায়, ভারতীয় কোন বোলার কীভাবে আটকায় কোন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানকে, সেটাই দেখার।

রোহিত শর্মা বনাম শাহীন আফ্রিদি

ভারত অধিনায়ক বনাম পাকিস্তানী বাঁ-হাতি পেসারের লড়াইয়ের রেকর্ড পুরোনো।

গত বিশ্বকাপ হোক বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, শাহীন আফ্রিদির পেস ধ্বসিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় ওপেনিংকে।

তরুণ এই পাকিস্তানি বোলারের বিশেষত্বই হচ্ছে প্রথম ওভারেই উইকেট নেওয়া। শাহীনের বোলিংকে অনেকে সহবাগের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সাথে তুলনা করেন।

শাহীনের অন্যতম টার্গেট হচ্ছেন রোহিত শর্মা। সাম্প্রতিক কিছু ম্যাচে পেস বোলিংয়ের সামনে রোহিতের দুর্বলতা ও পরিষ্কার ফুটে উঠেছে।

অতীতে দুবাইয়ে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে, শাহীন রোহিত কে ‘গোল্ডেন ডাক’- এ আউট ও করেন।

রোহিতের ফুটওয়ার্কই তাঁকে পেস আক্রমণের সামনে দুর্বল করে তুলেছে। রোহিতের দুর্বলতা মাথায় রেখেই শাহীন যে আক্রমণ করবেন, বলাই বাহুল্য।

পেসের সামনে স্বচ্ছন্দ না হলে ও রোহিত ম্যাচ ধরে খেলায় দক্ষ।

শাহীনের ঝোড়ো পেস বোলিং বনাম রোহিতের ব্যাটিং হবে শনিবারের ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের অন্যতম কী- ফ্যাক্টর।

বিরাট কোহলি বনাম হারিস রউফ

গত টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারিস রউফকে, বিরাট কোহলির মারা ছক্কা বর্ষণ ক্রিকেট ইতিহাসে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে।

গত নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান সিরিজে সেরা ফর্মে ছিলেন পাকিস্তানী এই পেসার। আফগানিস্তান সিরিজে পরপর পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

নিজের বোলিং নিয়ে আত্মবিশ্বাসী রউফ সাফ জানিয়েছেন, এবারে আর বিরাট কোহলি তাকে ছক্কা মারতে পারবেন না।

ক্রিকেটপ্রেমীদের বিরাট কোহলির ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নেই। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ জিততে ভালোবাসেন তিনি।

শনিবারের ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে সবার নজর থাকবেই থাকবে কোহলি বনাম রউফের দিকে।

বাবার আজম বনাম জসপ্রীত বুমরাহ

চোট সরিয়ে বহুদিন পর দলে ফিরেছেন ভারতীয় বোলার বুমরাহ। শেষবার ২০২১ এর দুবাইয়ের ম্যাচে তাকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছিলেন পাক অধিনায়ক।

১০ উইকেটে ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান কিন্তু সেদিনের বুমরাহের সাথে আজকের বুমরাহর বিস্তর ফারাক। ভারতীয় বোলার এখন অনেক শানিত।

ভারতীয় বোলিং গত বছরই বাবর আজমের ব্যাটিং চুরমার করে দিয়েছিল। আর্শদীপ সিংহ, ভুবনেশ্বর কুমারের কাছে সহজেই আউট হয়েছিলেন বাবর।

বাবর এশিয়া কাপে এসছেন, আফগানিস্তান সিরিজে সেঞ্চুরির পর কিন্তু ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপের সাথে আফগান টিমের আকাশপাতাল ফারাক।

বুমরাহ নতুন ফর্ম দিয়ে বদলা নেবেন নাকি বাবর ফিরে যাবেন পুরোনো ফর্মে, সেটার ওপরই নির্ভর করছে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ।

কুলদীপ যাদব বনাম ইফতিকার আহমেদ

কুলদীপ বনাম ইফতিকার ও ঘুরিয়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। কুলদীপ ভারতীয় টিমের একমাত্র রিস্টস্পিনার আর ইফতিকার ব্যাট করেন মিডল অর্ডারে।

পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে আপাতত সবচেয়ে ভরসাযোগ্য নামই ইফতিকার আহমেদ। একের পর এক শক্তিশালী হিট মারাই তাঁর বিশেষত্ব।

ভারতীয় ক্রিকেটে রোহিত শর্মা- রাহুল দ্রাবিড় যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে ভালো খেলছেন স্পিনার কুলদীপ।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার পুরোনো রেকর্ড আছে তাঁর। যুজবেন্দ্র চাহালের বদলে তাঁর ওপর বেশি ভরসা রেখেছে বোর্ড।

কুলদীপ এবং ইফিতিকারের মধ্যে কে বেশি নিজের ওপর টিমের ভরসার সম্মান রাখতে পারে, সেদিকে নজর রাখতেই হবে দর্শকদের।

শুভমান গিল বনাম নাসিম শাহ

একদিকে ভারতের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিমান ব্যাটসম্যান, অন্যদিকে পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিমান বোলার। নজর থাকবে দুজনের দিকেই।

ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে দুই তরুণ তুর্কি শুভমান গিল বনাম নাসিম শাহ ভালো ক্রিকেট উপহার দিতে পারেন দর্শকদের।

২৩ বছরের শুভমন নিজের ওডিআই কেরিয়ার শুরুই করেছেন দুর্ধর্ষ ব্যাটিং রেট নিয়ে। স্পিন বোলিংয়ের উল্টো দিকে ব্যাট করতে পারদর্শী তিনি।

শুভমানের দুর্বলতা ডান-হাতি পেসিং। তাঁর আজ পর্যন্ত সমস্ত ভালো স্কোরই বাঁ- হাতি বোলিংয়ের উল্টো দিকে।

নাসিম শাহ হচ্ছেন ডান- হাতি পেসার। পাকিস্তানের উঠতি তারকা বোলার যে বিপক্ষের এমন দুর্বলতার সুযোগ নেবেন, বলাই যায়।

যদি ও শুভমন ও নাসিম আজ পর্যন্ত কখনো মুখোমুখি হননি তবে শনিবারের ম্যাচে তাদের লড়াই সবার নজর কাড়বেই।

শুভমান তাঁর দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেন না নাসিম সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।

দুই টিমের কাছেই এই ম্যাচ সবসময়ই লিটমাস টেস্ট। এশিয়া কাপে ভারত বনাম পাকিস্তান বেশ কয়েকবার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সাম্প্রতিক অতীতে পাকিস্তান ওডিআইতে খুবই ভালো খেলেছে আবার রেকর্ড বলছে ভারত- পাক ম্যাচেই বেশি ম্যাচ ভারতই জিতেছে।

দুই দেশের মধ্যে বহু বছর সিরিজ বন্ধ ফলে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে বিপক্ষের শক্তি সম্বন্ধে দুই দলই খানিক অন্ধকারে।

ভারত বনাম পাকিস্তানে জয়ের পাল্লা কার দিকে ভারী তাই বলা যাচ্ছে না তবে দর্শকরা নিঃসন্দেহে ভালো ক্রিকেট দেখতে পাবেন এই ম্যাচে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *